ঘুরে এলাম তাবলিগ ইজতেমা
ইসমাইল দরবেশ
নতুন পয়গাম: ঘুরে এলাম তাবলিগের ইজতেমা। ‘ইজতেমা’ একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ সমাবেশ, জন-সমাবেশ। মূলত ‘তাবলিগ জামাত’ নামে একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন এই সমাবেশের আহ্বান করে থাকে। মূল উদ্দেশ্য হল আত্মশুদ্ধি। তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস (রহ.)। ভারতের হরিয়ানার মেওয়াতে ১৯২৬ সালে এই সংগঠনের ভিত্তি তৈরি করেন তিনি। তখন থেকে এখন পর্যন্ত সংগঠনের মূল কতকগুলি বৈশিষ্ট্য হল — এরা রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকে। সাধারণ মুসলমানদের দ্বীনের দিকে ফেরানোই আসল লক্ষ্য। ধর্মীয় নৈতিকতা বোধ তৈরি করা। এদের কাজকর্ম মূলত মসজিদকেন্দ্রিক। বছরে একবার অঞ্চলভিত্তিক ইজতেমা করা হয়। আমার জীবনে এরকম দুটি বড় ইজতেমা দেখা। একটি অনেক ছোটবেলায় হাওড়া জেলার নিবড়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল, একটু একটু মনে আছে। আর আজকে ৪ জানুয়ারি ২০২৫ হুগলি জেলার পুইনানে দেখলাম।
তাবলিগ জামাতের ৬টি মূল বিষয় আছে। কালিমা (ঈমান), নামায কায়েম, ইলম ও জিকির, ইকরামুল মুসলিমিন (মুসলমানের সম্মান রক্ষা), ইখলাসে নিয়ত, দাওয়াত ও তাবলিগ (দ্বীনের দাওয়াত)। তাবলিগ জামাতের সদস্যরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য (৩ দিন, ৪০ দিন, ৪ মাস ইত্যাদি) ঘর ছেড়ে দাওয়াতী কাজে বের হন। এবং এই কাজটি অতীব পুণ্যের বলে তারা মনে করেন।
বাস্তবিকই লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম। সবই পুরুষ মানুষ। কোনও ঝুট ঝামেলা নেই। কোনও ঝগড়া-অশান্তি নেই। হইচই চেঁচামেচিও নেই। প্রত্যেকের মধ্যে অন্যকে খেদমত করার মানসিকতা দেখলাম। তবে জল সরবরাহে অনেক খামতি আছে। অস্থায়ী টয়লেটের অবস্থা ভাল না থাকারই কথা। সরু নালা, তার ওপরেই জলের বোতলগুলি ফেললে নিকাশির অবস্থা তো খারাপ হবেই। সকলের একটু সচেতন হওয়ার দরকার। পরিবহন ব্যবস্থা সবচেয়ে খারাপ। পাঁচ-ছয় কিমি. দূরে গাড়ি আটকে দিচ্ছে। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে যেতে যুবকদের সমস্যা নেই; কিন্তু বৃদ্ধদের? মালপত্র ঘাড়ে করে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে বিস্মিত হয়েছি। কারও মনে অসন্তোষ নেই, বিক্ষোভ নেই। প্রতিটা মুখে যেন বৈরাগ্যভাব।
দেখলাম, এক একটি অঞ্চলের নিজস্ব এক একটি সামিয়ানা আছে। এগুলিকে বলে খিমা। সেখানে আমীরগণ বক্তব্য রাখছেন। মূল একটি খিমা আছে। সেখানেই কেবল মাইকের ব্যবহার। তাও বেশিরভাগ বক্তব্য ইস্তেগবাল করার জন্য। ‘ইস্তেগবাল’ শব্দের অর্থ অভ্যর্থনা জানানো। শব্দ দূষণ নেই বললেই চলে।
ঘুরতে ঘুরতে পায়ে ব্যাথা। খিদেও লেগেছিল খুব। একজন ভাই চিনতে পেরে তাদের ওখানেই খাওয়ার দাওয়াত দিলেন। আমরা সেখানেই বিশ্রাম করলাম, খাওয়া-দাওয়া করলাম। বিপত্তি ঘটল ফেরার সময়। বাইক কোথায় রেখেছি, মনে করতে পারছিলাম না। অনেক খোঁজার পর পেলাম বটে; কিন্তু ফিরব কোন পথ ধরে! অবশেষে ওই খিদমতগারদের পরামর্শে মূল রাস্তায় আসতে পারলাম।








