ফের বাংলাদেশি সন্দেহে হেনস্তা, ছত্তিসগড়ে অমানবিক নির্যাতনের শিকার মুর্শিদাবাদের শ্রমিকরা
নতুন পয়গাম: ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে ফের নিগৃহীত হলেন মুর্শিদাবাদের তিন পরিযায়ী শ্রমিক। ওড়িশার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ছত্তিসগড়ে অমানবিক অত্যাচারের শিকার হলেন তাঁরা। অভিযোগ, বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে চিহ্নিত করে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারার হুমকি দেওয়া হয়।
আক্রান্ত শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন সাগরদিঘী ব্লকের ডিহিবরজ এলাকার ইয়াদুল সেখ (২৮), হুকারহাট নতুনগ্রামের বাসিন্দা হানিফ সেখ (৬৫) এবং লালগোলা ব্লকের সীতেশনগরের মানজারুল হক ওরফে নিয়ামত (২৮)। তাঁরা ছত্তিসগড়ের সুকমা জেলায় বসবাস করে লেপ-তোষক নিয়ে ফেরি করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেরির কাজে বেরিয়ে নারায়ণপুর জেলায় পৌঁছালে কয়েকজন উগ্র হিন্দুত্ববাদী দুষ্কৃতী তাঁদের মোটরসাইকেল আটকে পরিচয়পত্র ও নথি দেখতে চায়। এরপর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে লাঠি, লোহার রড ও কিল-ঘুষি দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এই হামলায় মানজারুল হকের হাত ও পা ভেঙে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় শেষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর আহত ইয়াদুল সেখকে সাগরদিঘী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বিধায়ক বাইরণ বিশ্বাসের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল ইয়াদুলের বাড়িতে পৌঁছে আর্থিক সহায়তা ও বাড়ি নির্মাণের আশ্বাস দেয়। একই দিনে জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমানও আক্রান্ত পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দেন এবং চিকিৎসা ও আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন।
এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন ইয়াদুল সেখ। জানা গেছে, তিনি সাগরদিঘী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি ওড়িশায় মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক জুয়েল রানাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার পর ভিন রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের উদ্বেগ বাড়ছে বলে মনে করছেন বিভিন্ন মহল।








