তৃণমূল কংগ্রেসের উচ্ছেদের ডাক দিলেন এসডিপিআই নেতা হাকিকুল ইসলাম
নতুন পয়গাম: সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এসডিপিআই) -এর উদ্যোগে মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদিঘী বিধানসভার এস এন হাইস্কুল ময়দানে অনুষ্ঠিত হল এক বিশাল বৈষম্যবিরোধী সমাবেশ। “আমরা চুপ থাকব না, কারণ নীরবতা অন্যায়কে শক্তিশালী করে”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সমাবেশে বিপুল মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সমাবেশের সূচনা হয় দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। স্বাগত বক্তব্যে উত্তর মুর্শিদাবাদ জেলা সহ-সভাপতি বদরুল শেখ বলেন, শাসকদের ব্যর্থতা ও জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে আজ সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে এবং এসডিপিআই বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে আসছে।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসডিপিআই রাজ্য সভাপতি হাকিকুল ইসলাম বলেন, ব্রাহ্মণ্যবাদ আজ সমাজে বৈষম্যের মূল উৎসে পরিণত হয়েছে। গ্রাম-শহরের ফারাক, শিক্ষা ও সুযোগের অভাব প্রমাণ করে শাসকদের চরম ব্যর্থতা। তিনি বলেন, মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় আজও পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় না থাকা লজ্জার বিষয়। সমাবেশে ওড়িশায় নির্যাতিত সাগরদিঘীর পরিযায়ী শ্রমিক ইয়াজুল শেখকে মঞ্চে তুলে ধরে তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন হাকিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, জঙ্গিপুরের সাংসদ ও সাগরদিঘীর বিধায়ক জনগণের স্বার্থে উপযুক্ত স্থানে, লোকসভা, বিধানসভায় কথা না বলে দায়িত্ব এড়িয়ে চলছেন। জনগণ নির্বাচনের সময়ে উপযুক্ত জবাব দেবে।
দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে জনগণকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ওয়াকফ আইন, তিন তালাক ও পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রশ্নে সরকারের ভূমিকা সম্পূর্ণ ব্যর্থ। জাতীয় সম্পাদক তায়েদুল ইসলাম রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতার সমালোচনা করে বলেন, সাধারণ মানুষ আজ চরম বঞ্চনার শিকার। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য রাখেন ওমেন ইন্ডিয়া মুভমেন্ট-এর রাজ্য সভাপতি আলিয়া পারভীন। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন উত্তর মুর্শিদাবাদ জেলা সহ সভাপতি অশোক কুমার দাস, সাগরদিঘী বিধানসভা সভাপতি রুহুল আমিন, সেলিম শেখ ও মাওলানা আব্দুত তোয়াব। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্য কমিটির সদস্য মোঃ আসাদুল্লাহ ও হাবিবুর রহমান, উত্তর মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন, সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক মোঃ তাজেমুল হক, দক্ষিণ মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক আলী আকবর সিদ্দিকী। শেষে উত্তর মুর্শিদাবাদ জেলা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাইসুদ্দিন সকলকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।








