রায়বাঘিনী রাণী ভবশঙ্করী স্মৃতি মেলা
অভিজিৎ হাজরা, নতুন পয়গাম, হাওড়া: রায়বাঘিনী রাণী ভবশঙ্করী স্মৃতি মেলা গ্রামীণ হাওড়া জেলার উদয়নারায়ণপুরের গড়ভবানীপুরে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র । এবার ১৩তম বর্ষে পদার্পণ করল । মধ্যযুগের বীরাঙ্গনা রাণী ভবশঙ্করীর স্মৃতিবিজড়িত এই জনপদে ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত চলবে এই মেলা। ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত গড়ভবানীপুর ছিল ভুরশুট পরগণার রাজধানী। রাজা রুদ্রনারায়ণের পত্নী রাণী ভবশঙ্করী পাঠান সেনাপতি ওসমান খাঁকে যুদ্ধে পরাস্ত করে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। তাঁর এই বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে সম্রাট আকবর তাঁকে ‘রায়বাঘিনী’ উপাধিতে ভূষিত করেন। কালের নিয়মে হারিয়ে যাওয়া এই ইতিহাসকে নতুন করে তুলে ধরতেই গড়ে তোলা হয়েছে রায়বাঘিনী রাণী ভবশঙ্করী স্মৃতি পর্যটন কেন্দ্র।
রায়বাঘিনী রাণী ভবশঙ্করী স্মৃতি রক্ষা সমিতির উদ্যোগে এবং উদয়নারায়ণপুর বিধানসভার বিধায়ক সমীর কুমার পাঁজার তত্ত্বাবধানে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। বিধায়ক সমীর কুমার পাঁজা জানান, গড়ভবানীপুর আজ রাজ্য পর্যটন মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় পর্যটন কেন্দ্রের পাশাপাশি এই মেলাও রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে পরিচিতি লাভ করেছে।
মেলা প্রাঙ্গণে রয়েছে সুদৃশ্য প্রবেশতোরণ, মুক্তমঞ্চ, অডিটোরিয়াম, ঐতিহাসিক ও গ্রামীণ শিল্প সংগ্রহশালা, শিশু উদ্যান, ভেষজ উদ্যান, ইকো পার্ক, ঝিল ও আধুনিক পরিকাঠামো। পাশাপাশি কৃষি ও গ্রামীণ কুটির শিল্পের সম্ভার নিয়ে হাজির স্বনির্ভর গোষ্ঠীর শিল্পীরা। মেলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রয়েছে সংগীত, নৃত্য, নাটক, যাত্রাপালা, লোকনৃত্য, বাউল গান, কবি সম্মেলন, ম্যাজিক শো, প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান ও গুণীজন সম্মাননা। বিভিন্ন দিনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন জনপ্রিয় শিল্পী ও অভিনেতারা।
মেলার শুভ সূচনা করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অরূপ রায়, বিধায়িকা সায়ন্তিকা ব্যানার্জী, সাংসদ সাজদা আহমেদ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের আধিকারিকসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। কনকনে শীত উপেক্ষা করে প্রতিদিন সন্ধ্যায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠছে গড়ভবানীপুরের রায়বাঘিনী রাণী ভবশঙ্করী স্মৃতি মেলা প্রাঙ্গণ।








