সবথেকে বেশি ভারতীয়দের ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: অনুপ্রবেশকারী বা বেআইনি অভিবাসীদের দেশছাড়া করার প্রশ্নে বারবার শিরোনামে উঠে আসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম। কিন্তু বাস্তব তথ্য বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। ভারত সরকারের দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে আমেরিকা নয়, বরং রেকর্ড সংখ্যক ভারতীয় নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। শনিবার রাজ্যসভায় পেশ করা বিদেশ মন্ত্রকের একটি রিপোর্ট থেকে এই তথ্য সামনে এসেছে।
বিদেশের মাটি থেকে ভারতীয়দের প্রত্যাবাসনের নিরিখে ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তালিকার শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরব। রিয়াদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ৮,৮৮৭ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ২০২২ সালে সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়ায় ১০,২৭৭। ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ ১১,৪৮৬ জন। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ৯,২০৬ জন এবং চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত ৭,০১৯ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
উপসাগরীয় দেশটিতে ভারতীয়দের ফেরত পাঠানোর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে অভিবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘন। সৌদি আরবের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পরেও থেকে যাওয়া, বৈধ কাজের অনুমতি ছাড়া কাজ করা এবং বসবাসের আইন ভঙ্গ করার অপরাধেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শ্রম আইন লঙ্ঘনের হার এই অঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি।
ওয়াশিংটনে অবৈধ অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে থাকলেও, পরিসংখ্যান বলছে আমেরিকা থেকে ভারতীয়দের ফেরত পাঠানোর হার সৌদি আরবের তুলনায় নগণ্য। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, সৌদি আরব যে হারে প্রত্যাবাসন চালাচ্ছে, তার ধারের কাছেও নেই আমেরিকা বা ইউরোপের অন্যান্য দেশ।
এই রিপোর্ট সামনে আসতেই মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত কয়েক লক্ষ ভারতীয় শ্রমিকের ভবিষ্যৎ ও আইনি সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইন মেনে কাজ না করলে আগামী দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।








