বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
প্রকাশিত: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল ৯:২৩
|
আপডেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল ৯:৩৯
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। । বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর মৃত্যু একটি যুগের অবসান হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। (ফাইল চিত্র)
নতুন পয়গাম, ঢাকা, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বেগম জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, ফুসফুসে জটিলতা, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগসহ বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং মৃত্যুর আগে তিনি বেশ কয়েকদিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
বেগম জিয়ার মৃত্যুতে তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্য এবং দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালের সামনে এবং নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থক ভিড় জমাচ্ছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর মৃত্যু একটি যুগের অবসান হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

১৯৪৫ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করা খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৯১ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ মেয়াদে মোট তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮১ সালে স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর তিনি বিএনপির হাল ধরেন এবং আপসহীন নেত্রী হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেন।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ঢাকার একটি বিশেষ আদালত তাঁকে ৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। রায়ের পর পরই তাঁকে রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।পরবর্তীতে ওই বছরেরই অক্টোবর মাসে হাইকোর্ট তাঁর সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করে এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় তাঁকে আরও ৭ বছরের সাজা দেওয়া হয়।
তিনি প্রায় দুই বছর পরিত্যক্ত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে কাটিয়েছেন, যা অনেক পর্যবেক্ষক নির্জন কারাবাস হিসেবে বর্ণনা করেছেন [১.৩.৩, ১.৪.১০]। এই সময়ে তাঁর আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যগত জটিলতা মারাত্মক রূপ নেয়। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ করোনা মহামারীর প্রেক্ষাপটে সরকার তাঁর সাজা স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেয় এরপর থেকে দফায় দফায় তাঁর মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং তিনি গুলশানের নিজ বাসভবন ‘ফিরোজা’-তে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের আদেশে খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ মুক্তি দেওয়া হয়।২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে খালাস প্রদান করে। এর ফলে মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে থাকা প্রধান দুর্নীতি মামলাগুলো থেকে আইনিভাবে মুক্তি পান ।
আরও পড়ুন