মেরুদণ্ডের সমস্যায় ভুগছেন ৮০ শতাংশ মানুষ
নতুন পয়গাম:
বিশ্বে প্রতি দশ জনের মধ্যে আটজন মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময় মেরুদণ্ডের সমস্যায় আক্রান্ত হন। এই রোগের প্রতি জনসচেতনতা এখনো কম। অনেকে কোমর ব্যথাকে খুব একটা গুরুত্ব দেন না। ফলে জটিলতা বাড়ে। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা নিলে অনেক রোগই প্রতিরোধযোগ্য। বর্তমানে পৃথিবীতে অন্তত ১০০ কোটি মানুষ মেরুদণ্ড-সংক্রান্ত রোগে ভুগছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) তথ্য মতে, শুধু কোমর ব্যথায় ২০২০ সালে আক্রান্ত হয়েছেন ৬১৯ মিলিয়ন মানুষ এবং ২০৫০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা ৮৪৩ মিলিয়নে পৌঁছবে।
কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত চাকরিজীবীদের বড় একটি অংশও এই রোগে আক্রান্ত। ফলে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮ কোটি ৩০ লাখ জব আওয়ার বা কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। বছরে এর চিকিৎসা ব্যয় দাঁড়ায় ৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই সমস্যায় আক্রান্তদের কারণে সৃষ্ট উৎপাদনহীনতায় যে ক্ষতি হয়, তার পরিমাণ দাঁড়ায় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোমর ও ঘাড় ব্যথার চিকিৎসায় ১৩৪.৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, যা ডায়াবেটিস সহ অন্যান্য ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসার চেয়েও বেশি। মেরুদণ্ডের রোগ বৃদ্ধির কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জানা যায়, এ ক্ষেত্রে স্থূলতা ও ধূমপানের পাশাপাশি পেশা একটি বড় কারণ। কম শারীরিক শ্রমের জীবনধারা, দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে কাজ করা অন্যতম কারণ। একইভাবে কঠোর পরিশ্রমের যেসব কাজ রয়েছে, সেসব পেশায় যুক্ত মানুষও ঝুঁকিতে আছেন।
নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশে মেরুদণ্ডের আঘাতজনিত রোগ (স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি) সবচেয়ে বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছর সারা বিশ্বে ১৫.৪ মিলিয়ন মানুষ স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। স্বল্প আয়ের দেশে এই রোগীদের বড় অংশই মারা যান। যারা বেঁচে থাকেন, পঙ্গুত্ব হয় তাদের নিত্যসঙ্গী। এসব রোগীদের ৩৫ শতাংশ হুইলচেয়ার বা শয্যাশায়ী হয়ে যাচ্ছেন। তাদের আরেকটি বড় অংশ কর্মস্থলে ফিরতে পারেন না, প্রায় ৬০ ভাগ স্থায়ী বেকারত্বের শিকার হচ্ছেন।
বর্তমানে সব দেশেরই একটি বড় অংশ ঘাড়, পিঠ ও কোমরের ব্যথায় ভুগছেন। যার প্রধান কারণ এক্সিডেন্টাল ইনজুরি, ভুল ভঙ্গিমায় বসা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ও কম্পিউটার ব্যবহার। এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে হলে সবার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তাঁর নির্দেশমতো ওষুধ খেতে হবে এবং পথ্য মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি ব্যায়াম করতে হবে।








