ভারতীয় নাগরিকত্ব ত্যাগ করে ‘সমাজবাদ অন্তরাষ্ট্রীয় মাঝি সরকার’ এর নাগরিকত্ব নিয়েছেন ৫০ আদিবাসী
তৌসিফ আহম্মেদ, নতুন পয়গাম, খাতড়া, বাঁকুড়া:
ভোটার গণনাপত্র পূরণ না করার সিদ্ধান্ত আগে থেকেই জানিয়ে রেখেছিলেন তাঁরা। এবার সরাসরি প্রশাসনের কাছে গিয়ে জানালেন, ভারতীয় নাগরিকত্ব ত্যাগ করে তাঁরা নাকি যোগ দিয়েছেন ‘সমাজবাদ অন্তরাষ্ট্রীয় মাঝি সরকার’-এর জনগণনায়। নিজেদের ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড স্বেচ্ছায় জমা দিয়েছেন সেই তথাকথিত ‘সরকার’-এর কাছে। বিনিময়ে পেয়েছেন একটি পরিচয়পত্র। সেই পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়েই সোমবার প্রায় পঞ্চাশ জন আদিবাসী রানিবাঁধ ব্লক অফিসে গিয়ে লিখিত আকারে জানিয়ে দেন তাঁদের অবস্থান। পাশাপাশি মাঝি সরকারে যোগদানের ঘোষণাপত্রের প্রতিলিপিও জমা দেন তারা।
রানিবাঁধ ব্লকের রাউতোড়া, গোবিন্দশোল, ভেদুয়াশোল, মুচিকাটা-সহ বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা নির্বাচন কমিশনের এসআইআর গণনাপত্র পূরণ করেননি। কারণ জানতে চাইলে তাঁরা জানান, তাঁরা ‘সমাজবাদ অন্তরাষ্ট্রীয় মাঝি সরকার’-এর নাগরিকত্ব নিতে চান। ব্লক অফিসে আসা বেশ কিছু আদিবাসী মানুষ জানান, “কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার আমাদের উন্নয়ন করেনি। মাঝি সরকারই প্রকৃত উন্নয়ন করবে। তাই সেখানেই নাম নথিভুক্ত করেছি।” তাঁদের গলায় ঝুলছিল ‘মাঝি সরকার’ প্রদত্ত পরিচয়পত্র।
স্থানীয়দের আরও দাবি, “ভোটার আধার কার্ড জমা দিয়ে ভারত সরকারের নাগরিকত্ব ছেড়ে মাঝি সরকারের ঘোষণাপত্র পূরণ করলেই পরিচয়পত্র মেলে। সমাজমাধ্যমে মাঝি সরকারের বিষয়ে জানতে পারি। পরে গ্রামের ভিতরে কিছু লোক এসে বিষয়টি বুঝিয়ে যায়। এমনকি উড়িষ্যার ময়ূরভঞ্জে মাঝি সরকারের সদর দফতরেও গিয়েছি।” আরও দাবি, মাঝি সরকারের ‘নাগরিক’ হলে বাস-ট্রেন-বিমানের ভাড়া লাগে না, জমিজমার করও মাফ হয়ে যায়।
তবে প্রশাসনের বক্তব্য, ওই আদিবাসী বাসিন্দারা মিথ্যা প্ররোচনার শিকার হচ্ছেন। তাঁদের ভুল ভাঙানোর চেষ্টা চলছে। এসআইআরের গণনাপত্র পূরণ করতে মানুষকে বোঝাতে প্রশাসন সবরকম উদ্যোগ নিচ্ছে।








