৯৫ শতাংশ সম্পদের মালিক ৫ শতাংশ
মধ্যবিত্তদের উল্কাপতনে রকেট গতিতে বাড়ছে দেনার বহর
নয়াদিল্লি: নরেন্দ্র মোদির নতুন ভারতে ব্যাংক লোন নেওয়া অনেক সহজ হলেও ডাউন পেমেন্ট করতেই হয়। সেখানেও এবার টান পড়ছে মধ্যবিত্তের। তাই মধ্যবিত্ত পরিবারের উপর দেনার বার্ষিক গড় পরিমাণ লাফিয়ে বাড়ছে। এই তথ্য উঠে এসেছে খোদ রিজার্ভ ব্যাংকের রিপোর্টে। দেখা যাচ্ছে, কোভিডের আগে ধার-দেনার হার বেড়েছিল ১০২ শতাংশ! অথচ সম্পদ বেড়েছিল ৪৮ শতাংশ। রোজগারের দ্বিগুণেরও বেশি ছিল ঋণ বা ধার-দেনার খতিয়ান। এই পরিসংখ্যান ২০১৯-২৫ সালের। সবথেকে উল্লেখযোগ্য হল, দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি-র নিরিখে মানুষের সম্পদ বৃদ্ধির হার কমেছে। কিন্তু লাফিয়ে বেড়েছে আর্থিক দায়।
অর্থনীতির পরিভাষায় বলা হয়, মানুষ যত ভোগ্যপণ্যে খরচ করবে বা কেনাকাটা করবে, বাজারে ততই জিনিসপত্রের চাহিদা বাড়বে। সেই নিরিখে বাড়বে উৎপাদন বা জোগান। তখন বাজার হবে গতিশীল। ঘুরবে অর্থনীতি টাকা। কিন্তু ১৪৬ কোটির দেশে এই অঙ্ক এত সহজে মেলে না। বিশেষজ্ঞদের মতে এর কারণ, মাত্র ৫ শতাংশের হাতে রয়েছে দেশের মোট অর্থ-সম্পদের ৯৫ শতাংশ। তাছাড়াও রয়েছে উন্নয়নের সুষম বণ্টনের অভাব বা বৈষম্য এবং সর্বোপরি সামাজিক সুরক্ষার অভাব। ক্ষেত্রসমীক্ষা বলছে, মধ্যবিত্তদের কষ্ট সবথেকে বেশি। সম্মানহানির কথা ভেবে তারা মুখ ফুটে বলতে পারে না। রোজগার কমলে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। আয়োর সঙ্গে ব্যয়ের অনুপাত ধরে রাখতে খরচে কাটছাঁট করতে হয়। ভাল না থাকলেও ভাল থাকার অভিনয় করতে হয়। একজন মধ্যবিত্ত সামান্য বেতনের কাজ বা জব শেষ করার পর খুব বেশি সঞ্চয় করতে পারে না বা খুব বেশি টাকা বাড়ি নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারে না। বেসরকারি কাজ হলে তাদের কষ্ট আরো বেশি। যেটুকু সঞ্চয় থাকে, তাও অবসরের পর দ্রুত শেষ হতে থাকে। বর্তমানে মূল্যবৃদ্ধি যেমন বেলাগাম, তাতে তাদের সঞ্চয়ের সুযোগ ক্ষীণ। অথচ দিনে দিনে দেনা বাড়ছে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রিপোর্ট অনুযায়ী, মোদি ক্ষমতায় আসার পর দেশে পারিবারিক ঋণের অংক ২০১৫ সালে ছিল জিডিপি-র মাত্র ২৬ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৪২ শতাংশ। অর্থাৎ আয়ের তুলনায় ঋণ বেড়েছে দ্বিগুণ। ২০২৩ সালে মাথাপিছু ঋণ ছিল ৩.৯ লক্ষ টাকা। চলতি বছর মার্চে হয়েছে ৪.৮ লক্ষ টাকা। কিনতু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ঋণের বহর বাড়লেও তা দিয়ে সম্পদ বৃদ্ধি হচ্ছে না। কারণ, ঋণ করে মানুষ সংসার চালাচ্ছে। যদিও একে ধার করে ঘি খাওয়াা বলা সমীচীন নয়। করোনা অতিমারীর পর সাধারণ ও মধ্যবিত্তদের ঋণের বোঝা বিপুল বেড়েছে। অথচ সেই তুলনায় সম্পদ সৃষ্টি হয়নি বা বাড়েনি।








