৫ দেশে ৩৫ হাজার ইসরাইলি হামলা
নতুন পয়গাম,
তেলাবিব, ১৮ সেপ্টেম্বর: গত ২০ মাসের বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট’ (এসিএলইডি)-এর সর্বশেষ তথ্য বলছে, এই সময়ে ইসরাইল ৫টি দেশে ৩৫ হাজারেরও বেশি হামলা চালিয়েছে। সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের গাজা উপত্যকায়। ইসরাইলের বর্বর হামলার শিকার হওয়া বাকি চারটি দেশ হল — ইরান, সিরিয়া, লেবানন ও ইয়েমেন।
এসিএলইডি-র বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরাইলের হামলা শুরুর পর থেকেই আগ্রাসনের মাত্রা তীব্র হয়েছে। চলমান গাজা সংকট ছাড়াও ইসরাইল লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং সর্বশেষ ১৩ জুন ২০২৫ ইরানে হামলা চালিয়েছে। এই সময়ে ইসরাইলি বাহিনী ফিলিস্তিনে অন্তত ১৮ হাজার ২৩৫ দফা হামলা চালিয়েছে। লেবাননে হামলার সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার ৫২০ দফা, সিরিয়ায় ৬১৬, ইরানে ৫৮ এবং ইয়েমেনে ৪৫ দফা হামলা চালিয়েছে।
এসব হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবর্ষণ এবং দূরনিয়ন্ত্রিত বোমা। অনেক ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনাও ঘটেছে। গাজা উপত্যকায় টানা প্রায় দুই বছর ধরে চলমান একতরফা যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৬৫ হাজারেরও বেশি মানুষ শহিদ হয়েছেন। রাষ্ট্রসংঘের হিসাব অনুযায়ী, একই সময়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ১২০০ ফিলিস্তিনি। এদিকে গাজা যুদ্ধের মধ্যেই ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাত আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। লেবানন সীমান্তে প্রায় ১৪ মাসের সংঘাত শেষে ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় দুই পক্ষ। এই সংঘাতে হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়।
সিরিয়ার পরিস্থিতিও ভয়াবহ। ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর, বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের দুই দিন পর দেশজুড়ে ব্যাপক হামলা শুরু করে ইসরাইল। বিমানবন্দর, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা-সহ নানা কৌশলগত স্থাপনায় একের পর এক আঘাত হানে। গত ছয় মাসে সিরিয়ায় ২০০-র বেশি হামলা হয়েছে বলে জানায় এসিএলইডি।
ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকাতেও ইসরাইলি হামলা চালানো হয়, বিশেষ করে ২০২৪ সালের শেষদিকে হামলার মাত্রা বেড়ে যায় এবং ২০২৫ সালেও তা অব্যাহত থাকে। সবশেষ চলতি বছরের ১৩ জুন থেকে টানা ১২ দিন ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলে। শেষ পর্যন্ত ২৩ জুন দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।








