৯/১১ হামলার ২৪ বছর ‘হামলা সম্পর্কে আগেই জানত ইসরাইল’
নতুন পয়গাম, নিউ ইয়র্ক, ১০ সেপ্টেম্বর: মার্কিন সাংবাদিক টাকার কার্লসন বিস্ফোরক দাবি করেছেন যে, ইসরাইলি গোয়েন্দারা ৯/১১ হামলার আগেই বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন। মঙ্গলবার পিয়ার্স মরগানের অনুষ্ঠান ‘আনসেন্সরড নিউজ’-এ অংশ নিয়ে কার্লসন এই বোমা ফাটিয়ে বলেন, ইসরাইলের নেতৃত্ব কখনোই ৯/১১ হামলা নিয়ে তাদের মনোভাব লুকায়নি। বরং তারা মনে করত, ওই হামলা মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করেছে।
টিভি অ্যাঙ্কর কার্লসন আরও বলেন, ‘আমি বলছি না যে, হামলাটা ইহুদিরা করেছিল। ওই হামলার পরই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ক্যামেরার সামনে বলেছিলেন, “এটা আসলে ভাল একটা ঘটনা। কারণ, এর ফলে আমেরিকা এমন এক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে, যেটিতে আমরা কয়েক দশক ধরে অস্তিত্বের লড়াই করছি”। আর ২০০১ সালের সেই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্প গর্ব করে বলেছিলেন, এখন থেকে ম্যানহাটন শহরে সবথেকে উঁচু বিল্ডিং হল আমার নামাঙ্কিত কোম্পানির হেড কোয়ার্টার ‘ট্রাম্প টাওয়ার’। কারণ, এই টাওয়ারের থেকেও উঁচু ছিল ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বিল্ডিং, যেটি ৯/১১ হামলায় ধ্বংস হয়েছিল।
এদিকে ২০০২ সালে মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া নেতানিয়াহুর সাক্ষ্য তুলে ধরে এদিন কার্লসন স্মরণ করিয়ে দেন, কংগ্রেসে সেদিন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছিলেন, যুদ্ধে যেতে গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে কখনো কখনো ‘বোমা মেরে বাধ্য করতে হয়’। তিনি ৯/১১ হামলার সঙ্গে পার্ল হারবারে জাপানি হামলার তুলনাও করেছিলেন।
আমেরিকার নিউ ইয়র্কে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সেই ভয়াবহ হামলায় নিহত হয় প্রায় তিন হাজার মানুষ। কার্লসন বলেন, ‘আমরা জানি, এফবিআইয়ের নথি থেকে বলছি, তাদের মধ্যে কয়েকজন ৯/১১ হামলার ভিডিও করেছিলেন এবং আগে থেকেই হামলার খবর জানা ছিল তাঁদের।’
‘ইসরায়েলি আর্ট স্টুডেন্টস’ – এর প্রথম খোঁজ পাওয়া যায় ২০০০ সালের শেষ দিকে। তখন তাঁরা মার্কিন পুলিশ ও সামরিক অফিসে যাতায়াত করতেন। তাঁরা সেখানে ছবি বিক্রি ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করতেন। এসব শিক্ষার্থী বারবার চিহ্নিত করা নেই এমন সব স্থান, গোপন প্রবেশপথ, এমনকি কর্মকর্তাদের বাড়িতেও যেতেন।
এদিকে, ওই সময়কার খবরে জানা যায়, ২০০১ সালের শুরুর দিক থেকে ৯/১১ হামলার আগে পর্যন্ত অন্তত ১৪০ জন ইসরায়েলি নাগরিককে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে আটক করা হয়। হামলার পর আরও প্রায় ৬০ জনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ওই ‘শিক্ষার্থীদের’ কিছু দল হামলাকারীদের আবাসস্থলের কাছাকাছি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সদস্যরা দুটি বিমান ছিনতাই করে নিউ ইয়র্কের বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রের সুউচ্চ টুইন টাওয়ারে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। আরেকটি বিমান হামলা হয় মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে। পেনসিলভানিয়াতেও একইসঙ্গে হামলা হয়।
টুইন টাওয়ারে হামলার সময় ওই বিল্ডিংয়ে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার মানুষ ছিলেন। নর্থ টাওয়ারে হামলা হলে সেখানে কেউই বাঁচেনি; কিন্তু ১৮ জন সাউথ টাওয়ারের ইমপ্যাক্ট জোনের ওপরের মেঝে থেকে বেঁচে যান। হতাহতদের মধ্যে ৭৭ দেশের নাগরিক ছিলেন। হামলার পর হাজারো মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হন।








