উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার
নতুন পয়গাম, অতসী মন্ডল, হাওড়া: হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ-এর অন্তর্গত উলুবেড়িয়া থানা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওয়াইল্ডলাইফ এনভার্নমেন্ট্ সেভিয়ার ট্রাস্ট-এর যৌথ অভিযানে এক গৃহস্থ বাড়ি থেকে ১৫টি পাহাড়ি চন্দনা টিয়া পাখি (অ্যালেক্সান্দ্রিন প্যারাকীট) উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় এক আন্তরাজ্য পাখি পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরেই খোলা বাজারে টিয়া, ময়না, শালিকসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি অবাধে বিক্রির খবর পাচ্ছিল পুলিশ। সেই সূত্র ধরে বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা উলুবেড়িয়ার উলুবেড়িয়া বাজার পাড়া এলাকায় অনুপ গায়েন নামে এক বিক্রেতার বাড়িতে ক্রেতা সেজে যান। অভিযুক্ত পাখি দেখাতে বাড়িতে নিয়ে গেলে তল্লাশি চালিয়ে তার ঘর থেকে ১৫টি টিয়া উদ্ধার হয়। সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে বন দপ্তরকে খবর দেওয়া হলে রাতেই তারা এসে পাখিগুলি নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং ধৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা শুরু করে। আজ অভিযুক্তকে উলুবেড়িয়া মহকুমা আদালত-এ তোলা হবে। জেরায় ধৃত জানিয়েছে, পাঞ্জাব, ঝাড়খণ্ড-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে দেশীয় পাখি গোপনে এনে পশ্চিমবঙ্গ-এর বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করা হত। বিদেশি পাখি বিক্রির আড়ালে এই দেশীয় প্রজাতিগুলিও পাচার করা হতো বলে সে স্বীকার করেছে। পুলিশের মতে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে এবং তাদের খোঁজে তদন্ত চলছে। সংগঠনের সদস্য অর্ঘ্য মল্লিক বলেন, ১৯৭২ সালের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী টিয়া, ময়না, শালিকসহ সব দেশীয় পাখি পোষা বা বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তিনি বেআইনি পাখি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।








