দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে ১ কোটি ভক্তের সমাগম ট্রাস্টের কোষাগারে মাসে ১ কোটি ২০ লক্ষ, সঞ্চয় মাসে ৪৫ লক্ষ
নতুন পয়গাম, কলকাতা:
দীঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন হয়েছিল ৩০ এপ্রিল। তারপর প্রায় ৭ মাস হতে চলল। এর মধ্যে গত ৬ মাসে মোট ১ কোটি মানুষ বাংলার জগন্নাথ ধাম দর্শন বা পুজো দিতে গিয়েছেন। ফলে উপচে পড়ছে প্রণামীর বাক্স। অনুদান ও প্রণামী-সহ বিভিন্ন খাত থেকে প্রতি মাসে এই নবনির্মিত মন্দিরে আয় হচ্ছে গড়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। স্বভাবতই মন্দির পরিচালনা বাবদ খরচ খরচা উঠে আসার পরও কিছু উদ্বৃত্ত জমা হচ্ছে ট্রাস্টের ভাঁড়ারে। মেদিনীপুরের নামজাদা ট্যুরিস্ট স্পট দীঘা এই মন্দিরের দৌলতে একন আর কেবল সৈকতসুন্দরী বা পর্যটনকেন্দ্র নয়, বাংলার অন্যতম তীর্থস্থানও হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মন্দিরের উদ্বোধন করেছিলেন। মূলত রাজ্য সরকারের উদ্যোগে নির্মিত হলেও উদ্বোধনের পর মন্দির পরিচালনার দায়িত্ব ‘জগন্নাথ ধাম কালচারাল সেন্টার’ ট্রাস্টের হাতে তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। মন্দিরের ট্রাস্টি তথা কলকাতা ইসকনের সহ-সভাপতি রাধারমণ দাস বলেন, দ্বারোদ্ঘাটনের পর প্রথম এক মাসে এই মন্দিরে প্রায় ৩০ লক্ষ ভক্ত সমাগম হয়েছিল। এখন দিনে প্রায় ৩০ হাজার পুণ্যার্থী আসেন। শনি-রবিবার এই সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

মন্দির কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, যা আয় হচ্ছে, তাতে খরচ চালিয়েও মাসে ৪০ থেকে ৪৫ লক্ষ টাকা ট্রাস্টের কোষাগারে সঞ্চয় হিসেবে থাকছে। ট্রাস্টি রাধারমণ দাসের মতে, দিনে প্রায় এক লক্ষ টাকা আসছে অনুদান এবং উপহার থেকে। ভোগ এবং অন্যান্য প্রসাদ বিক্রি করে দৈনিক আয় হচ্ছে প্রায় দু’লক্ষ টাকা। হুন্ডিতে নগদে জমা পড়ে রোজ এক লক্ষ টাকা। সেই হিসেবে এখন মন্দিরের দৈনিক আয় প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, মাসে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। জানা গিয়েছে, এত টাকা খরচ হয় যেসব খাতে, সেগুলো হল মন্দিরের নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ বিল, বিভিন্ন বিভাগীয় কর্মীদের বেতন, নিত্য পুজো, রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি যাবতীয় ব্যয় মিলিয়ে মাসে কমবেশি ৭৫ লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে। মন্দিরের নিত্যসেবা এবং নিরাপত্তা, সাফাই, হাউস কিপিং স্টাফ মিলিয়ে প্রায় ১৭০ জনকে নিযুক্ত রয়েছেন।
এছাড়াও মন্দির ঘিরে গড়ে উঠছে ছোট-বড় নানান ব্যবসা। মন্দিরের আশপাশে গড়ে উঠছে অনেক নতুন হোটেল। সব মিলিয়ে এই মন্দির এলাকার সার্বিক অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে বলেই দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের।








