আগরতলা পুরসভা থেকে উধাও ১৬ কোটি
নতুন পয়গাম, আগরতলা, ৮ সেপ্টেম্বর:
ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা পুরনিগমের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে রাতারাতি উধাও হয়ে গিয়েছে ১৬ কোটি ৩৮ লক্ষ ৪৩ হাজার ৩০০ টাকা। জানা গিয়েছে এক মাসে কয়েক দফায় পুরসভার অ্যাকাউন্ট থেকে এই বিপুল পরিমাণ টাকা তুলে নেওয়া হয়। বিষয়টির পর্দা ফাঁস হতে অবশ্য এই অভিযোগের দায় ঝেড়ে ফেলেছে বিজেপি শাসিত পুরকর্তৃপক্ষ।
রাজ্যের ইতিহাসে অন্যতম এই বড় কেলেঙ্কারি ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, পুরনিগমের একাংশের কর্মী ও ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগসাজশে পুরো ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছে বিরোধীরা। মেয়র দীপক মজুমদার জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে। ব্যাঙ্ক এই অর্থ ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এর সঙ্গে পুরনিয়মের যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। তবে ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ এনেছেন মেয়র। জাল চেকের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তাঁর সাফাই। জানা গিয়েছে, রাজধানী আগরতলার ইউকো ব্যাঙ্কের প্রধান শাখা থেকে এই বিপুল অর্থ অবৈধভাবে তোলা হয়।
ঘটনাটি সামনে আসে যখন এএমসি কমিশনার ডি.কে. চাকমা ব্যয়ের হিসাব মিলিয়ে দেখার সময় গুরুতর অনিয়ম লক্ষ্য করেন। তিনি তৎক্ষণাৎ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। কমিশনারের অভিযোগে বলা হয়েছে, চারটি চেক ব্যবহার করে এই অর্থ তোলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এএমসি কখনোই ওই চেক ইস্যু করেনি। চমকপ্রদ বিষয় হল, ওই চেকগুলোতে ডি.কে. চাকমা এবং প্রাক্তন ইন-চার্জ কমিশনার পি. সামাদের সই জাল করা হয়েছে। একসময় নিয়মিত কমিশনার ড. শৈলেশ কুমার যাদব দায়িত্বে না থাকায় সামাদকে ইন-চার্জ কমিশনার হিসেবে রাখা হয়েছিল। তাঁদের নাম ও স্বাক্ষরের অপব্যবহার করে ব্যাঙ্কের কাছে চেক জমা পড়ে।
এদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত ওই ব্যাংকের দাবি, কিছু দুষ্কৃতি পুরনিগমের নাম ব্যবহার করে ভুয়ো পরিচয় দিয়ে সই জাল করে প্রতারণা করেছে। নিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, টাকার হিসেব না মেলায় ব্যাংকে ইমেল পাঠানো হয়। এরপরই নড়চড়ে বসে ব্যাংক। হিসেবে গরমিলের অভিযোগে আগরতলা পশ্চিম থানায় এব্যপারে মামলা দায়ের করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকের স্টেটমেন্ট অনুয়ায়ী, ৫ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিগমের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরানো হয়েছে। দফায় দফায় মোট ১৬ কোটি ৩৮ লক্ষ ৪৩ হাজার ৩০০ টাকা তুলে নেওয়া হয়। যদিও প্রশ্ন উঠছে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে নিগমের নজর এড়িয়ে এত বিপুল পরিমাণ টাকা সরানো হল কীভাবে? ব্যাংকের পক্ষ থেকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখানো হয়, একই ব্যক্তি পুর নিগমের পরিচয় দিয়ে ওই চেকগুলি প্রাপক ভেন্ডারদের নামে জমা করেছেন।








