উদ্ধার সাঁতারু বুলা চৌধুরীর ২৯৫টি পদক
দিলশাদ আনসারি, নতুন পয়গাম, হুগলি: আন্তর্জাতিক সাঁতারু পদ্মশ্রী বুলা চৌধুরীর হুগলী জেলার হিন্দমোটরের দেবাইপুরস্থিত বাড়ি থেকে চুরি হওয়া ২৯৫টি পদক ও মেডেল পুলিশ মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করেছে। এতে জড়িত হুগলীর রিষড়া নিবাসী ২০ বছরের কৃষ্ণ চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে এইসব পদক, সম্মান ও কিছু মূল্যবান ধাতব সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত বুলা চৌধুরীর ছোট পদ্মশ্রী পদক নিখোঁজ রয়েছে।
রবিবার শ্রীরামপুরে ডিসি অর্ণব বিশ্বাস ও এসিপি আলি রাজা সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, গত ১২ আগস্ট প্রথমবার চুরির চেষ্টা হয়েছিল এবং ১৪ আগস্ট রাতে বড় ধরনের চুরি হয়। পুলিশ কমিশনার অমিত পি. জাভালগির নির্দেশে গঠিত বিশেষ টিম সিআইডি ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে অভিযুক্তের হদিশ পায়। আপাতত ২৯৫টি পদক উদ্ধার হয়েছে, তবে তদন্ত এখনও চলছে।
উদ্ধার হওয়া পদকগুলো হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বুলা চৌধুরী বলেন, “পদকগুলো শুধুমাত্র ধাতব সামগ্রী নয়, এ আমার জীবন আর অনুভূতি। চুরির খবর শুনে মন ভীষণ ভেঙে গিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ আমার প্রত্যাশা থেকেও দ্রুত সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছে। আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ পুলিশ প্রশাসনকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই। তাঁর বিশ্বাস, বাকি পদক এবং মেডেলগুলোও পুলিশ শিগগির উদ্ধার করবে।
বুলা চৌধুরী আরও জানান, তিনি দেবাইপুকুরে নিজের বাড়িতে একটি স্পোর্টস মিউজিয়াম তৈরির কথা ভাবছেন, যাতে তাঁর দীর্ঘ সাঁতার তথা ক্রীড়া জীবনের সাফল্য সবসময় সংরক্ষিত থাকে এবং নতুন প্রজন্ম সেসব দেখে অনুপ্রাণিত হয়। উল্লেখ্য, জলপরী বুলা চৌধুরী কলকাতায় থাকেন। আবার মাঝেমধ্যে হুগলীর বাড়িতেও আসেন।
এদিন চুরি যাওয়া ২৯৫টা পদক ও মেডেল ফিরে পেয়ে বিশ্ববন্দিত প্রাক্ন সাঁতারু বুলা চৌধুরী বলেন, “পদ্মশ্রী সম্মান যখন দেওয়া হয়, তখন দু’টি পদক দেওয়া হয়েছিল। বড় পদকটা রাষ্ট্রপতি পরিয়ে দিয়েছিলেন, যা আমার কলকাতার কসবার বাড়িতে আছে। ছোট পদক, যা পরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাওয়া যায়, সেই পদকটি এখনও পাওয়া যাচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “মাত্র ৬ বছর বয়স থেকে আমি সাঁতার কাটছি। দেশ-বিদেশের অনেক পদক, মেডেল, পুরস্কার ও সম্মান পেয়েছি। যেদিন চুরি হল মন ভেঙে গিয়েছিল। আমি রাজ্যের মুখ্যসচিবকে বিষয়টা জানিয়েছিলাম। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বলব ভেবেছিলাম। তার আগেই চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এবং চন্দননগর পুলিশের টিম আমার পদক ও মেডেলগুলো উদ্ধার করেছেন। তাঁরা যে এত তাড়াতাড়ি কাজ করতে পারবে আমি ভাবতেও পারিনি।”








