ফের শূন্য, ফের ব্যর্থ কোহলি,ফের ব্যর্থ ভারত; হাতছাড়া সিরিজও
নিজস্ব সংবাদদাতা, নতুন পয়গাম
বর্তমানে ওয়ানডে ক্রিকেটে ৩০০ রানকেও নিরাপদ বলা চলে না,তবে সেটা কম্পিটিটিভ টোটাল তো বটেই।কিন্তু ভারত করলো মেরেকেটে মাত্র ২৬৪।অস্ট্রেলিয়ার ঘরের মাঠে এ রান যে তাদের কাছে নস্যি তা বুঝিয়ে দিলেন নবাগত কনোলি,ওয়েন’রা।
ফলে প্রথম ম্যাচ হেরে ফিরে আসার লড়াইয়ে ফের ব্যর্থ ভারত।পাশাপাশি একদা ভারতকে একার কাঁধে টানা কোহলিও আবার ব্যর্থ।অতএব এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জিতে নিল অস্ট্রেলিয়া।তবে দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে
রান পেলেন রোহিত শর্মা। অ্যাডিলেডে পুরনো রোহিতের ঝলক দেখা গেল।
২৬৫ রান ডিফেন্ড করতে নেমে একটু মাত্র আশা জেগেছিল।বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার দুই সেরা ব্যাটার মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেড তাড়াতাড়ি আউট হওয়ায়। কিন্তু মাঝের ওভারে তো উইকেট নিতে হবে। নইলে কী ভাবে জেতা যাবে? ফলে যা হওয়ার তাই হল। ম্যাথু শর্ট, ম্যাট রেনশ, কুপার কনোলি, মিচেল ওয়েনের মতো অনভিজ্ঞ ব্যাটারেরা অস্ট্রেলিয়াকে জিতিয়ে দিলেন। ভারত এদিন কুলদীপের অভাব বোধ করলেন।পারথ্-এর পর অ্যাডিলেডে ২ উইকেটে হেরে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ হেরে গেল ভারত। ফলে সিডনির ম্যাচটা আপাতত নিয়মরক্ষার ম্যাচ হয়ে গেল। এক দিনের অধিনায়ক হিসাবে নিজের প্রথম সিরিজ হারতে হল শুভমন গিলকে।
তবে হারের মধ্যেই ভারতের পক্ষে স্বস্তির খবর রোহিত শর্মার রানে ফেরা। আগের ম্যাচে রান পাননি রোহিত। ফলে এই ম্যাচে শুরুতে ধরে খেললেন। থিতু হওয়ার পর রান তোলার গতি বাড়ালেন। তাঁর সেই পুরনো কিছু পুল শট দেখা গেল। শতরান না পেলেও রোহিতের ফর্ম স্বস্তি দেবে ভারতকে। দল হারলেও নিজের সঙ্গে লড়াইয়ে তিনি জিতে গেলেন। রোহিতের ঠিক উল্টো ছবি কোহলির ব্যাটে। আরও একটি ম্যাচে শূন্য রানে ফিরলেন তিনি। এক দিনের কেরিয়ারে এই প্রথম পর পর দু’ম্যাচে শূন্য রানে আউট হলেন কোহলি। আরও এক বার ব্যর্থ হলেন তিনি। ২২৩ দিনের বিরতির পর ফেরার লড়াইয়ে কোহলিকে হারিয়ে দিলেন রোহিত।এদিন ম্যাচে টস হারটাও ফ্যাক্টর মনে করেন শুভমন। শুরুতে ব্যাট করতে হয় ভারতকে,যেটা অস্ট্রেলিয়া পিচে কঠিন। আগের ম্যাচে রান না পাওয়ায় এই ম্যাচে সাবধানী শুরু করেছিলেন রোহিত। ধরে খেলার চেষ্টা করছিলেন তিনি। তার পরেও জশ হ্যাজেলউডন ও মিচেল স্টার্কের বল তাঁকে সমস্যায় ফেলছিল। রোহিত ধীরে খেলায় চাপ বাড়ে শুভমানের উপর। এই ম্যাচে দুই বোলার জেভিয়ার বার্টলেট ও অ্যাডাম জাম্পাকে খেলিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। দু’জনেই সফল। বার্টলেটের বল ক্রিজ় ছেড়ে বেরিয়ে মারতে গিয়ে ৯ রানে আউট হলেন শুভমন।
আশা ছিল, রোহিতের মতো কোহলিও হয়তো ধরে খেলবেন। পার্থে নেমে আট বল খেলেছিলেন কোহলি। হেজলউড ও স্টার্কের বল সামলাতে পারেননি। পয়েন্ট অঞ্চলে গায়ের জোরে শট মারতে গিয়ে আউট হয়েছিলেন। অ্যাডিলেডে হেজলউড, স্টার্ককেও সামলাতে হয়নি। সামনে ছিলেন অনামী বার্টলেট। তাঁর প্রথম দু’টি বল ছাড়েন কোহলি। দেখে মনে হচ্ছিল, অফ স্টাম্পের বাইরের বল দেখে খেলার চেষ্টা করছেন। তৃতীয় বল ডিফেন্ড করেন। চতুর্থ বল পিচে পড়ে ভিতরে ঢোকে। বলে ব্যাট লাগাতে পারেননি কোহলি। বল গিয়ে লাগে প্যাডের মাঝে। আম্পায়ার সঙ্গে সঙ্গে আউট দেন।
কোহলি যখন ফিরছেন, তখন অ্যাডিলেডের দর্শকেরা উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দেন। তাঁদের দিকে গ্লাভস তুলে ‘গুডবাই’ জানান কোহলি। মাথা নিচু করেই মাঠ ছাড়েন তিনি। অ্যাডিলেড কোহলির অন্যতম প্রিয় মাঠ। এই মাঠে ৯৭৫ রান রয়েছে তাঁর। সেখানেই শূন্য রানে আউট হয়ে হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়েন কোহলি। তিনি স্পষ্ট বুঝতে পারছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাঁর আর একটিই ইনিংস বাকি। এর পর আর এই দেশে খেলা হবে না।
এখন প্রশ্ন হল, এই সিরিজের পর কি আর ভারতের জার্সিতে কোনও দেশেই খেলার সুযোগ পাবেন কোহলি? এখন একটি ফরম্যাটেই খেলেন তিনি। বছরে সবচেয়ে কম এক দিনের ম্যাচ হয়। কোহলি যা খেলছেন, তাতে পরের সিরিজে তাঁর সুযোগ পাওয়া কঠিন। তাঁর হয়ে কথা বলার মানুষের সংখ্যাও এবার ধীরে ধীরে কমবে। কারণ, যদি তিনি রান করতেন, তা হলে কোহলিকে খেলানোর দাবি বাড়ত। সেটা তো তিনি করতে পারছেন না। রোহিত রান করায় তাঁকে বাইরে রাখতে হলে ভাবতে হবে গৌতম গম্ভীর, অজিত আগরকরকে।
রোহিত শুরুতে সময় নিলেন। প্রথম ৪০ বলে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ৪০। তার পর এক লাফে তা বেড়ে হল ১০৬। মিচেল ওয়েনের বলে জোড়া ছক্কা মেরে রানরেট বাড়ালেন রোহিত। এক বার হাত খোলার পর পুরনো রোহিতকে দেখা যাচ্ছিল। তাঁকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন শ্রেয়স আয়ার। ১০ কেজি ওজন কমিয়েছেন রোহিত। ফলে উইকেটের মাঝে অনেক ভাল দৌড়োচ্ছেন। তাই শুধু বড় শটের উপর ভরসা করতে হচ্ছে না তাঁকে। অর্ধশতরান করার পর রান তোলার গতি আরও বাড়ান রোহিত। ঠিক যখন শতরানের আশা জন্মেছে ভারতীয় সমর্থকদের মনে, তখন নিজের পছন্দের পুল মারতে গিয়ে আউট হলেন তিনি। ৯৭ বলে ৭৩ রান করলেন। রোহিতোচিত ইনিংস না হলেও প্রত্যাবর্তনের শুরু বলা যেতে পারে এই ইনিংসকে।
রোহিত ছাড়াও রান পেলেন শ্রেয়স। ৭৭ বলে ৬১ রান করলেন তিনি। অক্ষর করলেন ৪৪ রান। ঠিক যখনই মনে হচ্ছিল, ভারত রান তোলার গতি বাড়াবে তখনই উইকেট পড়ছিল। মাঝের ওভারে উইকেট তোলার কাজ করলেন জাম্পা। পর পর উইকেট পড়ায় চাপ বাড়ে ভারতের উপর। কিন্তু নবম উইকেটে হর্ষিত রানা (২৪) ও অর্শদীপ সিংহ (১৩) ভারতের রান ২৫০ পার করেন। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ২৬৪ রান করে ভারত। জাম্পা ৪ ও বার্টলেট ৩ উইকেট নেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে
অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার মার্শ ও হেডও শুরুটা ধীরে করেন। ভারতীয় পেসারেরা তখন নিয়ন্ত্রিত বল করছিলেন। হাত খুলতে না পেরে উশখুশ করছিলেন মার্শ। ১১ রানের মাথায় তাঁকে ফেরান অর্শদীপ। হেড ২৮ রান করে হর্ষিতের বলে আউট হন। তাতে অবশ্য অস্ট্রেলিয়া চাপে পড়েনি। তৃতীয় উইকেটে শর্ট ও রেনশ জুটি বাঁধেন। ভারতকে সমস্যায় ফেলল ক্যাচিং। শর্টের ক্যাচ দু’বার পড়ল। তার মধ্যে মহম্মদ সিরাজ় লোপ্পা ক্যাচ ছাড়লেন। শর্ট করলেন ৭৪। ত খেলা যত গড়াল তত অনিয়ন্ত্রিত বল করলেন ভারতের বোলারেরা। বিশেষ করে হর্ষিত। এই ম্যাচেও রান দিলেন তিনি। তাঁকে একের পর এক ম্যাচ খেলাচ্ছেন গম্ভীর। কিন্তু হর্ষিতের যা পারফরম্যান্স তাতে তাঁর জাতীয় দলে খেলা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
শর্ট আউট হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস টানলেন কোনোলি। তাঁকে সঙ্গ দিলেন ওয়েন। মাঝের ওভার ভারত উইকেট তুলতে পারল না। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে যে কাজটা জাম্পা করেছিলেন সেটা কেউ করতে পারলেন না। শুভমন বুঝলেন, এই দলে কুলদীপ যাদবের কতটা প্রয়োজন ছিল। তিনি থাকলে হয়তো এতটা সহজে খেলতে পারত না অস্ট্রেলিয়া। উইকেট পড়লে চাপ বাড়ত। যেমনটা দেখা গেল শেষ দিকে। কয়েকটা উইকেট পড়ায় অস্ট্রেলিয়ার জিততে আরও কিছুটা সময় লাগল। কিন্তু তত ক্ষণে খেলার ফয়সালা প্রায় হয়ে গিয়েছে। কোনোলি শেষ পর্যন্ত থাকলেন। দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন তিনি। ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন কোনোলি।
সুতরাং শেষ ম্যাচের আর গুরুত্ব রইলো না।এখন দেখার ওই ম্যাচে কোহলি ফর্মে ফেরেন কিনা!








