বহু সাংসদ, মন্ত্রীর বেতন-ভাতা আটকে রাজ্যসভায় কেন বৈষম্য, কাঠগড়ায় কেন্দ্র সরকার
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি, ১৪ সেপ্টেম্বর:
দেশের বহু নামজাদা হেভিওয়েট সাংসদ তথা মন্ত্রীর বেতন-ভাতা আটকে রয়েছে প্রায় দু-বছর ধরে। এই নিয়ে ফের দিল্লির দরবারে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কংগ্রেসের প্রাক্তন হাইকমান্ড এবং বর্তমানে রাজ্যসভার সাংসদ সোনিয়া গান্ধী, কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ও দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন থেকে শুরু করে দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার মতো নেতা-মন্ত্রীদের প্রাপ্য বেতন-ভাতাও দীর্ঘদিন আটকে রয়েছে। অনেক দরবার করেও সুরাহা হচ্ছে না। অভিযোগ, এসব বকেয়া প্রাপ্য চাইলে বলা হচ্ছে, ফান্ড নেই।
পরিসংখ্যান বলছে, সাংসদ ও মন্ত্রীদের প্রাপ্য বাবদ প্রায় ৩৩ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এমনকী সাংসদ-মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত সহকারী বা পিএ-দেরও টাকা দিচ্ছে না কেন্দ্রীয় সরকার বা সংসদ বিষয়ক মন্ত্রক। জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের পর রাজ্যসভার যেসব সাংসদ অবসর নিয়েছেন, তাঁদেরও বকেয়া আটকে রয়েছে। সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হল, ফান্ড নেই বলে রাজ্যসভার সচিবালয় থেকে সাফাই দেওয়া হলেও লোকসভার সাংসদরা কিন্তু মাস দুয়েক আগেই সব বকেয়া পেয়ে গিয়েছেন। রাজ্যসভার ক্ষেত্রে কেন এমন বৈষম্য বা বিমাতৃসুলভ আচরণ করা হচ্ছে, সে প্রশ্ন জোরালোভাবে উঠছে।
জানা গিয়েছে, গত দু-বছরের বকেয়া হিসেবে প্রত্যেক সাংসদ পাবেন ১১ লক্ষ ৪ হাজার টাকা। তাদের পিএ-রা পাবেন ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ৩২ কোটি ৯২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা আটকে রয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি সাংসদদের বেতন বেড়েছে ২৪ শতাংশ বা প্রায় এক চতুর্থাংশ। নতুন কাঠামোয় তাদের বেতন হয়েছে মাসে ১ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা। পাশাপাশি সংসদীয় ক্ষেত্র ভাতা এবং অফিস ভাতা মিলিয়ে আগে যেখানে মাসে প্রত্যেক সাংসদ পেতেন ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা, এখন তা হয়েছে ২ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা। বর্ধিত এই বেতন কাঠামো ২০২৩ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিল থেকে বর্ধিত বেতন-ভাতার অর্থ মিললেও গত দু-বছরের পাওনাগণ্ডা বা এরিয়ার এখনও বকেয়াই রয়ে গিয়েছে। সাংসদের পিএ-রা পান মাসে ৫০ হাজার টাকা। আগে ছিল ৪০ হাজার।








