মঙ্গল গ্রহের বৃহত্তম উল্কাপিণ্ড নিলামে, মালিকানা নিয়ে বিতর্ক
নতুন পয়গাম, ১৪ আগস্ট: এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবথেকে বড় মঙ্গল গ্রহের উল্কাপিণ্ড বিক্রি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ৫৪ পাউন্ড বা ২৫ কিলোগ্রাম ওজনের এই পাথরটি ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে নাইজারের বিস্তীর্ণ সাহারা মরুভূমি থেকে উদ্ধার হয়। বিশ্বের প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম চারুকলা নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সোথবি’স-এর নিলাম তালিকা অনুযায়ী, এটি এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে পাওয়া সবথেকে বড় মঙ্গলের উল্কাপিণ্ড।
এদিকে নাইজার সরকার জানিয়েছে, নিলামের পর তারা এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করবে। দেশটির সরকারের ভাষায়, এই বিক্রি আন্তর্জাতিক অবৈধ পাচারের সকল বৈশিষ্ট্য বহন করছে। শুক্রবার সরকার পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মূল্যবান পাথর এবং উল্কাপিণ্ডের রপ্তানি স্থগিত করেছে। তবে সোথবি’স-এর পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, উল্কাপিণ্ডটি নাইজার থেকে সব আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া মেনে রপ্তানি করা হয়েছে।
তবুও চলমান বিতর্কের প্রেক্ষিতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আওতায় আনা হয়েছে বলে সংস্থার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন। সোথবি’স-এর তালিকায় উল্লেখ আছে, ‘এই পাথরটি মহাকাশে ১৪ কোটি মাইল ভ্রমণ করার পর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে সাহারা মরুভূমিতে পতিত হয়।’ আবিষ্কারের পর খসখসে, গেরুয়া রঙের পাথরটি জনৈক ধনকুবেরের কাছে বিক্রি হয়। পরে ইতালিতে প্রদর্শনীর পর নিউইয়র্কের নিলাম ক্যাটালগে জায়গা পায়।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে নাইজার সরকারের সঙ্গে কাজ করা মার্কিন জীবাশ্ম বিশারদ পল সেরেনো বলেছেন, সব তথ্যই ইঙ্গিত করছে যে, উল্কাপিণ্ডটি অবৈধভাবে দেশটি থেকে বেরিয়ে গেছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যিনি এটি পেয়েছেন, বিক্রেতা, ক্রেতা — সবারই পরিচয় গোপন। যদি কেউ বেসবল গ্লাভস পরে আকাশ থেকে পড়ার সময় এটি ধরে ফেলত, তাহলে দাবি করতে পারত। কিন্তু দুঃখিত, এটি এখানে পড়েছে। এটি নাইজারের সম্পদ।
উল্লেখ্য, উল্কাপিণ্ডের মালিকানা সংক্রান্ত আইন দেশ ভেদে ভিন্ন। মার্কিন মুলুকে কারো ব্যক্তিগত জমি বা ভূখণ্ডে উল্কাপিণ্ড পড়লে ব্যক্তি মালিকানার অধিকার থাকে। কিন্তু নাইজারের ‘জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ আইন অনুযায়ী বিরল খনিজ নমুনাগুলো রাষ্ট্রের সম্পদ।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের ন্যাশনাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের কর্মকর্তা মথিউ গুনেল ও তার বাবা অধ্যাপক ম্যাক্স গুনেল জানিয়েছেন, এই আইনের আওতায় উল্কাপিণ্ড অবশ্যই সুরক্ষিত সম্পদের তালিকায় পড়বে। আইনি জটিলতা ও সম্ভাব্য পাচার নেটওয়ার্কের বিষয় ছাড়াও এই বিক্রি বৈজ্ঞানিক নীতিশাস্ত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
‘এনডব্লিউএ ১৬৭৮৮’ নামে পরিচিত এই উল্কাপিণ্ড অন্যান্য মঙ্গলীয় উল্কাপিণ্ডের তুলনায় অনেক বড় এবং লাল গ্রহের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস সম্পর্কে অনেক রহস্য এতে লুকিয়ে রয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মঙ্গলগ্রহে একটি গ্রহাণু আঘাত করার সময় এটি মহাকাশে ছিটকে গিয়েছিল। আবার পল সেরেনো বলেন, ‘এটি প্রকৃতির ঐতিহ্য, এক অর্থে বিশ্বের ঐতিহ্য, যা আমাদের মহাবিশ্ব সম্পর্কে নতুন শিক্ষা দিচ্ছে এবং নতুন করে গবেষণার দিগন্ত উন্মোচিত করেছে। তাই এটিকে সম্মান করা উচিত। উল্কাপিণ্ডটি কারো ব্যক্তিগত ড্রয়িংরুমে হারিয়ে থাকার জিনিস নয়।’








