আজ উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। হঠাৎ সরে দাঁড়ালেন নবীন-কেসিআর
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি, ৮ সেপ্টেম্বর: আজ মঙ্গলবার উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে সরকার ও বিপক্ষ যুযুধান শিবিরেই প্রস্তুতি তুঙ্গে। অবশ্য লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে সংখ্যার বিচারে এগিয়ে আছে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোট। তাদের প্রার্থী সি.পি রাধাকৃষ্ণনের পক্ষে জোট সাংসদদের সব ভোট পড়ে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়। বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বালাকৃষ্ণাণ সুদর্শন রেড্ডিও চেষ্টার কসুর করছেন না। উল্লেখ্য, এবার উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে মূলত তামিল ও তেলেগু অস্মিতার লড়াই।
সরকার পক্ষের প্রার্থী মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল হলেও রাধাকৃষ্ণন আদতে তামিলনাডুর ভূমিপুত্র। এই রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের শরিক দল ডিএমকে। আবার বিরোধী জোটের প্রার্থী বি.এস রেড্ডি হলেন অন্ধ্র্প্রদেশের মানুষ। এই রাজ্যে ক্ষমতাসীন টিডিপি দলের সুপ্রিমো চন্দ্রবাবু নাইডুর একদা ঘনিষ্ঠ ছিলেন রেড্ডি। কিন্তু টিডিপি দলটি এনডিএ জোটের শরিক। তাই উভয়পক্ষই এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চাইছে। যদি দুই রাজ্যের কিছু ভোট তাদের প্রার্থী পায়।
রবিবার এক ভিডিও বার্তায় বি.এস রেড্ডি আবেদন করেন দেশ, সংবিধান এবং গণতন্ত্রের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে ভোট দিতে। উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই আচমকা পদত্যাগ করেন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধানখড়। তবে তার ইস্তফার নেপথ্য কারণ রহস্যময়ই রয়ে গিয়েছে। যাহোক, ধানখড়ের পদত্যাগের কারণেই উপরাষ্ট্রপতি পদে উপনির্বাচন হচ্ছে। এই নির্বাচন গোপন ব্যালটে হয়। তাই ভোট কাটাকুটির খেলা হয় এতে।
অন্যদিকে, ভোটের ঠিক আগের দিন হঠাৎ উড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের বিজেডি এবং তেলেঙ্গানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের বিআরএস — উভয় দলই উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াল। উল্লেখ্য, এর আগে এই দুই দলই বিভিন্ন সময় এনডিএ জোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ২০২২ সালে উপরাষ্ট্রপতি ভোটে তারা জগদীপ ধানখড়ের পক্ষে ভোট দিয়েছিল। এবার তারা আরো কৌশলী পদক্ষেপ করে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে সরে গিয়ে পরোক্ষে এনডিএ জোটের জয় নিশ্চিত করল। এর ফলে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা কমবে, যাতে সুবিধা হবে বিজেপি জোটের।
এই ভোটে লোকসভা এবং রাজ্যসভা উভয়কক্ষের সব সাংসদ ভোট দেন। রাজ্যসভায় মোট আসন ২৪০। লোকসভার সাংসদ সংখ্যা ৫৪২। মোট ভোটদাতা ৭৮২জন। বিজেডি ও বিআরএস ভোটে অংশ না নেওয়ায় এই সংখ্যা কমে হল ৭৭০। জেতার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাও কমে হল ৩৮৬। এখন এনডিএ জোটের পক্ষে লোকসভায় ২৯৩ এবং রাজ্যসভায় ১২৯জন, অর্থাৎ তাদের মোট ভোট ৪২২। আর উভয় কক্ষ মিলিয়ে ইন্ডিয়া জোটের পক্ষে রয়েছে ৩২৪ সাংসদের সমর্থন। সুতরাং খুব বড় কিছু অঘটন না ঘটলে শেষ হাসি হাসবেন মোদি-শাহরাই।








