জামিন পেতে সুপ্রিম কোর্টে উমর, শারজিল
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি, ৬ সেপ্টেম্বর: দিল্লি হাই কোর্ট গত ২ সেপ্টেম্বর খারিজ করে দিয়েছিল উমর খালিদ, শারজিল ইমাম-সহ ১০ জনের জামিনের আর্জি। এবার তারা জামিন পেতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দিল্লি দাঙ্গায় জড়িত বলে অভিযোগ আনা হয় জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির এইসব ছাত্র নেতাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ৫ বছর ধরে অভিযোগ বা অপরাধ প্রমাণ না হওয়ার পরেও তারা বারবার জামিন না পেয়ে হতাশ। দিল্লি হাইকোর্টের জামিন না-মঞ্জুরকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার দেশের শীর্ষ আদালতে গেলেন উমর, ইমামরা। যদিও এই আবেদন এখনও সুপ্রিম কোর্টে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়নি।
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন সিএএ-র বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন ও হিংসার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইউএপিএ ধারায় মামলা দায়ের হয় তাঁদের বিরুদ্ধে। তার পর থেকে অনেকবার জামিনের আবেদন জানিয়েও মুক্তি পাননি এসব ছাত্রনেতা। প্রতিবারই তাদের জামিনের আর্জি খারিজ হয়ে যায়। গত মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট উমর খালিদ, শারজিল ইমাম-সহ আতহার খান, খালিদ সাইফি, মহম্মদ সেলিম খান, শিফা-উর-রহমান, মিরান হায়দার, গলফিশা ফাতিমা এবং শাদাব আহমেদ সবার জামিন খারিজ করে দেয়। গ্রেপ্তারের পর থেকে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে এরা সকলেই হেফাজতে রয়েছেন। পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপলক্ষে মাঝে মধ্যে কেউ কেউ অবশ্য সপ্তাহ খানেকের অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন। তবে পুরোপুরি রেহাই মেলেনি।
মঙ্গলবার জামিন খারিজ করে দিল্লি হাই কোর্ট জানায়, প্রাথমিকভাবে ওই ষড়যন্ত্রে শারজিল ইমাম, উমর খালিদদের ভূমিকা ‘গুরুতর’ বলেই মনে হচ্ছে। তারা মুসলিম সম্প্রদায়কে একত্রিত করতে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক ভাষণ দিয়েছিলেন। পুলিশের তরফেও জানানো হয়, ২০১৯-২০ সালে দিল্লি জুড়ে সিএএ-বিরোধী বিক্ষোভকে সন্ত্রাসের পথে পরিচালিত করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। এরাই আসল মাস্টারমাইন্ড। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় লিফলেট বিতরণ, বক্তৃতা, তহবিল সংগ্রহ এবং হিংসায় উসকানি দেওয়ার কাজ চালিয়েছিল অভিযুক্তরা। যদিও গত ৫ বছরে এসব অভিযোগের কোনটাই প্রমাণ হয়নি।
সিএএ এবং এনআরসি বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির হিংসায় নিহত হয় ৫৩ জন। সেই দাঙ্গায় এদের বিরুদ্ধে দায়ের হয় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা। যদিও তাদের গ্রেপ্তারির বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠেছিল। অভিযোগ ওঠে, সিএএ-এনআরসি বিরোধী জনগণের কণ্ঠস্বর দমনেই এদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে বিভিন্ন সময় দেশের বিশিষ্টজন, বিভিন্ন এনজিও এবং মানবাধিকার সংগঠন সোচ্চার হয়।








