খুলে গেল গরুমারা জাতীয় উদ্যান-সহ সংরক্ষিত বনাঞ্চল, খুশি পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা
প্রীতিময় সরখেল
নতুন পয়গাম, জলপাইগুড়ি:
পুজোর মুখে তিন মাসের অপেক্ষার অবসান। খুলে গেল গরুমারা জাতীয় উদ্যান-সহ রাজ্যের সমস্ত সংরক্ষিত বনাঞ্চল। স্বাভাবিকভাবেই খুশি পর্যটক থেকে শুরু করে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষেরা। বনদপ্তরের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ।
গতকাল থেকে পর্যটকদের জন্য গরুমারা জাতীয় উদ্যান, চাপড়ামারি, নেওরাভেলি, জলদাপাড়া, বক্সা ও চিলাপাতা—সব ক’টি সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং জাতীয় উদ্যানের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার পরে আবারও শুরু হয়েছে জঙ্গল সাফারি, হাতির পিঠে ভ্রমণ এবং বনবাংলোয় থাকার সুযোগ।
বনদপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, পর্যটকদের জন্য কুনকি হাতির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, যাতে হাতির পিঠে সাফারির সুযোগ আরও বেশি হয়। একই সঙ্গে খুলে দেওয়া হয়েছে গরুমারা বনবাংলো ও চাপড়ামারির গভীর বনবাংলোগুলি। ইতিমধ্যেই বনবাংলোগুলি সংস্কার ও কুনকি হাতিদের প্রস্তুত করার কাজ চলছে।
প্রতি বছর ১৫ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্যপ্রাণীর প্রজননকাল হওয়ায় জঙ্গলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকে। বর্ষার সময় জঙ্গলে গাছপালা বাড়ে এবং বন্যপ্রাণীরা প্রজননকালীন সময়ে থাকে। তাঁদের যাতে বিরক্ত না করা হয়, সেই কারণেই এই সময়ে বনাঞ্চল বন্ধ থাকে।
নিষেধাজ্ঞার কারণে ডুয়ার্সের গরুমারা, জলদাপাড়া, চাপড়ামারি, বক্সা ও চিলাপাতার গভীর বনবাংলোয় পর্যটকদের থাকার সুযোগ ছিল না। আজ থেকে ফের রাত্রিবাসের পাশাপাশি হাতির পিঠে সাফারি ও জঙ্গল সাফারির সুযোগ উপভোগ করতে পারবেন পর্যটকরা।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ অধীর আগ্রহে এই দিনের অপেক্ষায় ছিলেন। আজ থেকে গরুমারা, চাপড়ামারি, জলদাপাড়া, নেওরাভেলি, বক্সা সহ সমস্ত বনাঞ্চলে প্রবেশের পাশাপাশি রাত্রিবাসের জন্য বনদপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইটে অনলাইনে বুকিং করা যাবে।
জলপাইগুড়ি জেলায় বেড়াতে আসা কলকাতার পর্যটক স্বপ্না সেন বলেন, “তিন মাস ধরে অপেক্ষায় ছিলাম জঙ্গল খোলার। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জঙ্গল খোলায় খুবই খুশি আমরা। সকালে জিপসি ধরে গরুমারার জঙ্গল ঘুরে দেখলাম। তেমন কিছু দেখা যায়নি, বনশুয়োর, ময়ূর আর নানা পাখি দেখেছি। খুবই ভালো লেগেছে, আবার ঘুরতে আসব।”
পুজোর মুখে বনদপ্তরের এই পদক্ষেপে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্তদের মুখেও হাসি ফুটেছে।







