পদ্মে কাঁটা, শাহী হস্তক্ষেপে তটস্থ বঙ্গ বিজেপি
নতুন পয়গাম, কলকাতা ও নয়াদিল্লি:
কথা ছিল কালীপুজোর পরই বঙ্গ বিজেপির নতুন কমিটি ঘোষণা হবে। কিন্তু নবীন-প্রবীণ এবং আদি-নব্য গোষ্ঠীর মধ্যে কলহ, বিবাদ, গোষ্ঠী কোন্দল এতটাই মাত্রা ছাড়িয়েছে যে, অমিত শাহকে হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। আর মাত্র মাস পাঁচেক পর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু এখনও ঘর গুছিয়ে উঠতে পারেননি রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার — মাঝে রেফারি হিসেবে রয়েছেন শমীক। দলের নতুন প্রাদেশিক কাণ্ডারী হয়ে তিনি কীভাবে কী করবেন, কাকে কীভাবে সামলাবেন, কার মান কীভাবে ভাঙাবেন, কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না। এমতাবস্থায় অমিত শাহকেও খুব সাবধানী পদক্ষেপ করতে হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যদিও দিলীপ ঘোষ এখন আর পিকচারে নেই, সুকান্ত মজুমদার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব পেয়ে আপাতত রাজ্যে রণভঙ্গ দিয়েছেন। তবে তাদের অনুগামীরা রয়ে গিয়েছেন। তারা চান, তাদের হিসসা। তবে এখন মূল ফাইট শুভেন্দু ও শমীক লবির মধ্যে।
শোনা যাচ্ছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাজ্য কমিটি গঠন নিয়ে তুমুল মতবিরোধ চলছে বঙ্গ বিজেপির অন্দর মহলে। ক্ষোভ-বিক্ষোভ এমনই তুঙ্গে উঠেছে যে, বিনা যুদ্ধে কেউ পদ বা সূচাগ্র মেদিনী ছাড়তে নারাজ। এদিকে দলে ভারসাম্য ফেরাতে নতুন রাজ্য কমিটিতে নতুন মুখের পাশাপাশি আদি গেরুয়া নেতাদের প্রাধান্য দিতে চাইছেন শমীক ভট্টাচার্য। যুযুধান উভয় শিবিরের মধ্যে ব্যালেন্স করে নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণা করতে কার্যত হিমশিম খেতে হচ্ছে বিজেপির জাতীয় নেতৃত্বকে। জানা গিয়েছে, সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় রেখে নতুন রাজ্য কমিটি গঠনে নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে হস্তক্ষেপ করতে চলেছেন অমিত শাহ। দিল্লি থেকে এসে শাহ বা নাড্ডারা কমিটি তৈরি করে দিলে কাদা ছোড়াছুড়ি, দড়ি টানাটানি থেকে শুরু করে ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত হবে। কিন্তু দ্বন্দ্ব বা কোন্দল না মিটলে সব পক্ষের মতামত নিয়ে শেষমেশ নিজেই একতরফা রাজ্য কমিটি চূড়ান্ত করতে পারেন অমিত শাহ।
বিজেপির সংবিধান অনুযায়ী নতুন সভাপতি হওয়ার পর নিজের মতো করে অনুগত লোকদের নিয়ে টিম তৈরি করেন। কিন্তু শমীক ভট্টাচার্য বঙ্গ বিজেপির সভাপতি হওয়ার পর কয়েক মাস কেটে গেলেও টিম ঘোষণা হয়নি। ফলে মাত্র মাস পাঁচেক পর বিধানসভা ভোটে বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে বঙ্গ বিজেপি। এর জন্য দায়ী থাকবে রাজ্য নেতাদের সমন্বয়ের অভাব। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি খুবই জটিল। এমনিতেই তিনটি গোষ্ঠীর সমান্তরাল দাপটে রাজ্য বিজেপিতে হাঁড়ির হাল অবস্থা চলছে। দিল্লি থেকে শাহ-নাড্ডারা এসে কী দাওয়াই বা প্রতিষেধক দেন, তার ওপরেই এখন নজর সবার। আবার চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত কতটা মান্যতা পাবে, তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। তবে শাহী হস্তক্ষেপে তটস্থ সব পক্ষই।








