দরজায় কড়া নাড়ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ,এখনও নড়বড়ে টপ অর্ডার
নিজস্ব সংবাদদাতা, নতুন পয়গামঃ
মেরেকেটে আর খান আষ্টেক কুড়ি-বিশের ম্যাচ পাবেন গিল,সূর্যরা বিশ্বকাপের আগে।কিন্তু এখনও নড়বড়ে টপ অর্ডার।বিশেষ করে গিল আর সূর্যই সবচেয়ে বেশি ফ্লপ।আর কত সুযোগ পেলে তাঁরা ভালো করবেন!
হার্দিক চোট থেকে এসেই ম্যাচ জেতাচ্ছে,অথচ সূর্যরা নিষ্প্রভ।
মুল্লানপুরে দক্ষিণ আফ্রিকা দেখিয়ে দিয়েছে টিম ইন্ডিয়ার দুর্বলতা। রবিবার সন্ধ্যায় ধরমশালায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজের তৃতীয় টি-২০ ম্যাচ সেজন্যই হয়ে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ। সূর্য-গিল রান না পেলে এবার ‘প্ল্যান বি’ আঁকড়ে ধরতে হবে হয়তো।
হিমাচলপ্রদেশের শৈলশহরে সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা নেমে যাচ্ছে দশ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও নীচে। পাহাড়ে ঘেরা অপরূপ স্টেডিয়ামে শীত উপভোগের আবহ অবশ্য ভারতীয় শিবিরের নেই। বরং সঞ্জু স্যামসনকে বসিয়ে গিলকে ওপেনার হিসেবে খেলানো নিয়েই উত্তপ্ত পরিবেশ ক্রিকেট মহলে। এই ইস্যুতেও বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত সমালোচনা করছেন কোচ গৌতম গম্ভীরের। একা সঞ্জুই তো নন, স্কোয়াডের বাইরে অপেক্ষারত যশস্বী জয়সওয়ালের মতো প্রতিভাধর। অবশ্য গিলের চেয়েও সঙ্গীন দশা ক্যাপ্টেন সূর্যর। একবছরেরও বেশি সময় ধরে ফর্ম হাতড়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। এই সময়কালে ‘স্কাই’ একবারও পঞ্চাশে পৌঁছননি। প্রথম এগারোয় দু’জন ব্যাটারের ফর্মে না থাকাই বাড়াচ্ছে রক্তচাপ। প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার যা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে দল। সূর্য তো চাপের মুখে ব্যাটিং অর্ডারে পিছিয়েও নেন নিজেকে। তিনে নামিয়ে দেন অক্ষর প্যাটেলকে, যিনি কিনা স্পিনের বিরুদ্ধে আগ্রাসী শট খেলায় দক্ষ!
প্রোটিয়া পেসাররা চোখে আঙুল দিয়ে তুলে ধরেছেন উপমহাদেশের পিচে ঠিক কীভাবে বল করতে হয়। মার্কো জানসেন, লুঙ্গি এনগিডি, অ্যানরিখ নর্তজে, ওটনিয়েল বার্টম্যান, লুথো সিপামলাদের গতি ও বাউন্সে বেসামাল দেখাচ্ছে সূর্যদের। ধরমশালাতেও সহায়তা মজুত থাকবে পেস বোলারদের। ঠান্ডার কারণে বাড়তি সিম মুভমেন্ট সুবিধা দেবে সিমারদের। বাউন্সও মিলবে ভরপুর। পরিসংখ্যান বলছে, এখানে নৈশালোকে হওয়া পাঁচ টি-২০ ম্যাচে চারবারই জিতেছে রান তাড়া করা দল। তাই টস জেতা জরুরি। অবশ্য মুল্লানপুরে ভারত টস জিতেও হেরেছে। দুশো প্লাস স্কোর তাড়া করা যায়নি। গত জানুয়ারি থেকে ধরলে এই ফরম্যাটে বৃহস্পতিবারই প্রথমবার সূর্যরা টস জিতে হারলেন। সেটাও চিন্তায় রাখছে।
এমনিতে ভারতের প্রথম এগারোয় খুব একটা বদলের সম্ভাবনা নেই। গিলের উপরই আপাতত থাকছে আস্থা। বোলিংয়ে কুলদীপ যাদবকে খেলানোর একটা ভাবনা থাকছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে বসতে হবে অর্শদীপ সিংকে। পেস সহায়ক পিচে তা কতটা যুক্তিসঙ্গত, সংশয় রয়েছে। তাতে আবার হার্দিক পান্ডিয়াকে পাওয়ার প্লে’র মধ্যে বল করাতে হবে। কিন্তু যশপ্রীত বুমরাহও যে চার ওভারে দিয়েছেন ৪৫ রান। হার্দিকের তিন ওভারে উঠেছে ৩৪। ফলে ভরসা রাখাও মুশকিল। তবে অর্শদীপ খেললেও মনোবল বাড়ার কথা নয়। বাঁ-হাতি পেসার যে চার ওভারে ৫৪ উপহার দিয়েছেন। কুইন্টন ডি’কক, ডোনোভান ফেরেইরাদের সামনে ভারতীয় বোলিংয়ের ভগ্নদশাই প্রকট। আইডেন মার্করামের দলের বিরুদ্ধে রবিবার তাই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে গম্ভীরের ছাত্ররা।আজ এই চ্যালেঞ্জে ফেল করলে সমালোচনা বাড়বে বই,কমবে না।
আজ তৃতীয় টি-টোয়েন্টি।
ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা।
ম্যাচ শুরু সন্ধ্যা ৭টায়।
সরাসরি সম্প্রচার স্টার স্পোর্টস ও জিওহটস্টারে।








