হাঁচি বন্ধ হয়েছিল তিন বছর পর
নতুন পয়গাম, লন্ডন,
১৭ সেপ্টেম্বর: ‘হাতির হাঁচি’ শোনার জন্য নেপালের বনে-জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে হয়রান হয়েছিল কেষ্টা নামক এক ব্যক্তি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা বিখ্যাত ছড়ায় এই পংক্তি ছিল খুবই মজার। সেই ছড়ায় বর্ণিত হয়েছে, হাতির হাঁচির শব্দ শোনার জন্য কেষ্টাকে কত কসরত করতে হয়েছিল। কেষ্টা ব্যাটার অদ্ভুত সেই প্রচেষ্টা নিয়েই কবিগুরু লিখেছিলেন মজার ছড়াটি। হাতির যাতে হাঁচি পায়, সেজন্য শুঁড়ে কঞ্চি ঢুকিয়ে সুড়সুড়ি দিয়ে, নাকে নস্যি দিয়ে এবং কাদায় ভেঙে বিভিন্ন চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত হতাশ হয় কেষ্টা।
ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডন শহরের বাসিন্দা ডোনা গ্রিফিথের বয়স তখন মাত্র ১২-১৩ বছর। ঘটনাটি ১৯৮১ সালের। একদিন হাঁচতে গিয়ে অদ্ভুত সমস্যায় পড়ল সে। আর পাঁচজনের মতোই প্রথমে একটি হাঁচি দিয়ে শুরুটা হয়েছিল। এরপর অবিরাম চলতে থাকে সেই হাঁচি, যা আর কিছুতেই থামে না। হাঁচতে হাঁচতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে ডোনা গ্রিফিথ। যাদের অ্যালার্জির ধাত আছে বা ভুক্তভুগীরা নিশ্চয়ই বিষয়টি মর্মে মর্মে অনুভব বা উপলব্ধি করতে পারছেন। তবে ডোনা গ্রিফিথের মতো দুর্দশার কথা আর কারো ক্ষেত্রে শোনা যায়নি। এটা কাম্যও নয়।
ওই বছর ১৩ জানুয়ারি শুরু হয়েছিল গ্রিফিথের হাঁচি। টানা ৯৭৬ দিন অর্থাৎ ২ বছর ৮ মাস ৬ দিন পর ১৯৮৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর থামে সেই হাঁচি। রোগের বিড়ম্বনাই তাকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়। পৌনে তিন বছরেরও বেশি লাগাতার হাঁচি হওয়ার জন্য ডোনা গ্রিফিথের নাম উঠে যায় গিনেস বুকস অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে। জানা যায়, প্রথম বছরে ডোনা গ্রিফিথ অন্তত দশ লক্ষ বার হাঁচি দিয়েছিল। তবে ২ বছর ৮ মাস ৬ দিনে মোট কতবার সে হেঁচেছিল, সেই সংখ্যা অবশ্য নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।








