গঙ্গা ভাঙন, দুঃসময়ে পাশে দাঁড়াল প্রতিবেশীরা
আবারও সম্প্রীতির নজির সামসেরগঞ্জে
রাজু আনসারী, নতুন পয়গাম, অরঙ্গাবাদ:
মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে ফের গঙ্গার ভাঙন। বুধবার ভোর থেকে উত্তর চাচন্ড গ্রামে নদীর জল গিলে নিতে শুরু করেছে ঘরবাড়ি, জমি আর গাছপালা। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মূলত হিন্দু পরিবারগুলো। ইতিমধ্যেই জয়দেব সরকারের বাড়ি ও একাধিক তালগাছ গঙ্গার গর্ভে চলে গেছে। আতঙ্কে ঘর ছেড়ে পালাচ্ছেন অনামিকা সরকার, বিশু সিংহ, বিজয় সিংহ, অর্জুন সরকারদের মতো পরিবার।
কিন্তু এ বিপদের সময় তাঁদের একমাত্র আশ্রয় হয়ে উঠেছেন প্রতিবেশী মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন। আনিকুল ইসলাম, মতিউর রহমান, সোফি কামাল, মইদুল শেখরা হাত লাগিয়েছেন ঘরবাড়ি খালি করার কাজে। কেউ তুলছেন টিউবওয়েল, কেউ ঘরের টিন খুলে নিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ আসবাবপত্র সরাচ্ছেন নিরাপদ জায়গায়।
ডাক্তার রবিউল ইসলাম বলেন,
“এই দুঃসময়ে ভেদাভেদ নয়, দরকার পাশে দাঁড়ানো। প্রতিবেশীদের শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
গঙ্গার জলস্তর আবার বাড়তে শুরু করায় আতঙ্ক আরও বাড়ছে। যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় ভাঙন হলে আরও বহু বাড়িঘর নদীতে ভেসে যাবে বলে আশঙ্কা। কিন্তু ভাঙনের ভয়াবহতার মধ্যেও সামশেরগঞ্জে হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষের একসঙ্গে লড়াই করাই প্রমাণ করছে—সম্প্রীতির এই সম্পর্ক এখনও অটুট।
সামসেরগঞ্জে বার বার আমরা প্রতিবেশিদের মধ্যে সম্প্রীতি, শান্তিপূর্ণ সহবস্থান দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু কিছুদিন আগেই এই সামসেরগঞ্জে রাজনীতির রুটি সেঁকতে নোংরা রাজনীতি মানুষের মধ্যে কৃত্তিম অস্থিরতা তৈরি করেছিল। বিকৃত মিডিয়া মিথ্যা প্রপাগান্ডা চালাতে কোমর বেঁধে নেমেছিল। তারপর দিনের আলোর মত প্রকাশ হয়ে যায়, কীভাবে বহিরাগতদের দিয়ে শান্ত পরিবেশ অশান্ত করার প্রচেষ্টা করা হয়েছে।







