এসআইআর এ সবচেয়ে বেশি নাম বাদ যাবে মতুয়াদের, এই আতঙ্কে মতুয়ারা দিশেহারা: মমতাবালা
নতুন পয়গাম, আব্দুল গফফার, হুগলি: এসআইআর এ সবচেয়ে বেশি নাম বাদ যাবে মতুয়াদের, বিজেপি নেতাদের এই কথায় ভীত হয়ে পড়েছে মতুয়ারা। এখন লড়াই ছাড়া তাদের আর কোন পথ নেই। চুঁচুড়ার রবীন্দ্রনগরে মতুয়া সংঘের বার্ষিক অনুষ্ঠানে এসে এই কথাগুলো বললেন মতুয়া সংঘাধীপতি এবং রাজ্য সভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। এদিন তিনি আরও বলেন, বিজেপি নেতারা এক এক সময় একেকরকম কথা বলছে। শান্তনু ঠাকুর বলছে,পঞ্চাশ লক্ষ যদি রোহিঙ্গা বাংলাদেশী বাদ যায় তাহলে এক লক্ষ মতুয়া বাদ গেলে কিছু যায় আসে না। তাঁর এই কথাতে ভীষণ ভীত হয়ে পড়েছে মতুয়ারা। পঞ্চাশ লক্ষ রোহিঙ্গা থাকলে তো বাদ দেবে। আসলে তাদের ভোট নিয়ে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে। এজন্য আদৌ তারা ভোট দিতে পারবে কি না সেই নিয়ে একটা সংশয় থেকে যাচ্ছে। এদিকে নির্বাচন কমিশন আবার বলছে সিএএ এর তথ্য দিতে। ২০১৯ থেকে কতজনক মানুষকে তারা নাগরিকত্ব দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বলছে সিএএ তে আবেদন করলেই যে সে নাগরিকত্ব পাবে তা ভুল। এজন্য তথ্য দিয়ে আগে নাগরিকত্ব পাবে তারপর ভোটাধিকার। এত ভাওতা এত মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে এরা মানুষকে পাগল বানিয়ে দিচ্ছে। আমরা এর জন্যই বারবার গেছি, হাতজোড় করে অনুরোধ করেছি যে আপনারা আধার কার্ডটা আবশ্যিক করুন। যারা মৃত এবং ভুয়ো ভোটার তাদের নাম বাদ যাক কিন্তু যাঁরা ২০০২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ভোট দিল, তারপর সরকার তৈরি হল, এখন তারা বলছে তারা বৈধ নয়।তাহলে তো সরকারটাই বৈধ নয়। সরকার এবার ফেলে দিক। এরপর এসআইআর হোক। নির্বাচন হোক।
এরা উদ্যেশ্যপ্রণোদিতভাবে মানুষকে হয়রানির ও আতঙ্কের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। তাতে মানুষ মারা যাচ্ছে, একটা পরিবার শেষ হয়ে যাচ্ছে শুধুমাত্র একটা ভোটের জন্য। এর জবাব কে দেবে। নির্বাচন কমিশন দেবে, নরেন্দ্র মোদী না অমিত শা দেবে। এইতো সেদিন বনগাঁয় সুকান্ত মজুমদার এসে বলছেন একটা মতুয়ারও ভোট কাটবেনা। আর মতুয়াদের ঘরের ছেলে শান্তনু বলছে এক লক্ষ নাম কেটে গেলেও কিছু যায় আসে না।শুভেন্দু অধিকারী বলছে মতুয়াদের নাম বাদ যাবে না। নেতাদের এই নাটক, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আর কত মানুষকে বিভ্রান্ত করবে। আবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন একটা বৈধ নামও যদি বাদ যায় তাহলে দিল্লির বুকে লড়াই হবে। এখন লড়াই ছাড়া আর কোন পথ নেই। সঙ্গবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে। আইন পরিবর্তন করতে হবে।দিল্লিতে এর আগে কৃষক আন্দোলনে ৭০০ লোক মারা গিয়েছিল। তাতে মোদীর কোমর ভেঙে দিয়ে আইন পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। গুজরাটে আরাবল্লী নিয়ে যেটা হল সবই আন্দোলনের ফলে হয়েছে।সেই জায়গায় যেতে হবে। মতুয়াদের বলব ভোট কাকে দেবেন না দেবেন সেটা ঠিক করবেন আপনি। কিন্তু নাম একবার কেটে গেলে তার বংশের কারো নাম ভোটার লিস্টে উঠবে না। ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে গোলামী করাবে। এখনো পর্যন্ত বুথে বুথে যতগুলো নাম বাদ যাবার আশঙ্কা রয়েছে তাতে মতুয়াদেরই সংখ্যাই বেশি।








