বাংলার প্রদীপ রাজরূপ, অভিষেকের হাতে
নিজস্ব সংবাদদাতা, নতুন পয়গাম:
দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলে দেখা মেলে না বাঙালি ফুটবলারদের। এবার হয়তো আক্ষেপ ঘুঁচতে চলেছে।নেপথ্যে অভিষেক,রাজরূপ’রা।
সিনিয়র জাতীয় দলে বাঙালি ফুটবলারের সংখ্যা শুধুই হতাশা বাড়ায়।
তবে কিছুটা ব্যতিক্রম যুব দল। শক্তিশালী ইরানকে বশ মানিয়ে রবিবারই এশিয়ান কাপের মূলপর্বে পৌঁছেছে অনূর্ধ্ব-১৭ দল। গোলকিপার রাজরূপ সরকার ও ডিফেন্ডার অভিষেক মণ্ডলের প্রশংসায় বিশেষজ্ঞরা পঞ্চমুখ।
শিয়ালদহ-বনগাঁ শাখায় ব্যস্ত স্টেশন মছলন্দপুর। রসগোল্লা, সাদা দইয়ের বেশ খ্যাতি। মোহন বাগানের ঘরের ছেলে শিলটন পালও মছলন্দপুরেরই। সিনিয়রের মতো রাজরূপও গোলকিপার। সোমবার বাড়ি ফেরার পর সংবর্ধনার ঢল বইছে। তবে আবেগে না ভেসে রাজরূপের মন্তব্য, ‘সবে শুরু। নিজেকে ধরে রাখতে হবে।’ সাফল্যের আপ্তবাক্য ওঁর মাথায় পুরে দিয়েছেন বিবিয়ানো। গোয়ানিজ কোচ লম্বা গোলকিপার খুঁজছিলেন। স্কাউটিংয়ের সময় রাজস্থানের জিঙ্ক অ্যাকাডেমির রাজরূপকে চোখে পড়ে। ছ’ফুটের বেশি উচ্চতা। প্রতিভা চিনতে ভুল হয়নি বিবিয়ানোর। ইরানের বিরুদ্ধে নিজেকে ছাপিয়ে গিয়েছে মছলন্দপুরের ছেলে। ছোট্ট মন্তব্য, ‘আত্মবিশ্বাস ছিল, গোল খাব না। ম্যাচের পর জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল।’
নৈহাটির অভিষেক মণ্ডলের কাহিনি একটু অন্যরকম। বাবা ট্রাক চালক। বিলাসিতা শুধুই স্বপ্ন। পাসপোর্ট সমস্যায় জাতীয় দলে যোগদান অনিশ্চিত ছিল। খবর পেয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ন উত্তর ২৪ পরগণা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব নবাব ভট্টাচার্য। অভিষেক বলে, ‘ওঁরা না থাকলে জার্সি পরাই হত না।’ ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে লিড নেয় ভারত। দীর্ঘদেহী অভিষেককে নামিয়ে পাঁচ ডিফেন্ডারের স্ট্র্যাটেজি নেন বিবিয়ানো। ম্যাচের পর বুকে জড়িয়ে ধরেন অভিষেককে। মোহন বাগান যুব দল থেকে ওর উত্থান। ছুটি কাটিয়ে এবার যোগ দেবে ডেগি ব্রিগেডে। শুরু নতুন লড়াই।
এবার হয়তো জাতীয় দলে বাঙালি শূন্যের আক্ষেপ ঘুঁচবে।








