রাজ্যে প্রথম গুলতি ক্লাব চালু হল হাওড়ার আমতায়
নতুন পয়গাম, নিজস্ব প্রতিবেদন: হাওড়ার বাগনানে রয়েছে ‘বাটুল’ নামে এক গ্রাম। বাটুল বলতে বোঝায়, গুলতি। বলা হয়, গুলতির জোরেই নাকি একদা বর্গিহানা রুখে দিয়েছিল রূপনারায়ণ-পারের ওই গ্রাম। সেই থেকে মুখে মুখে গ্রামের নাম ছড়ায় বাটুল। কাহিনি যাই হোক, সেই হাওড়ারই আমতায় তৈরি হল রাজ্যের প্রথম গুলতি ক্লাব।
গুলতি হচ্ছে মানুষের প্রাচীনতম লক্ষ্যভেদের অস্ত্র। পশ্চিমবঙ্গ বা ভারত তথা ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজি ‘ওয়াই’ আকারের অস্ত্রটির প্রচলন বহুকালের। বিশেষত, আদিবাসী ও গ্রামীণ সমাজে গুলতির ব্যবহার এখনও রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ গুলতি ক্লাব কেন? উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, এখন অনেক রকম শুটিং স্পোর্ট রয়েছে। তীরন্দাজি, বন্দুক চালনা ইত্যাদি। কিন্তু গুলতিই তার মধ্যে একমাত্র খেলা, যা সবচেয়ে সস্তার এবং প্রায় সব বয়সের মানুষ এটি খেলতে পারেন।
গুলতির সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠান ‘শ্লিংশট অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া’। এই সংস্থার সদস্য হিসেবে রয়েছে মহারাষ্ট্র, গোয়া, তেলেঙ্গানা, কেরল ইত্যাদি রাজ্য। সে-সব রাজ্যে গুলতি খেলার প্রাদেশিক সংস্থাও রয়েছে। তেমনই তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের গুলতি সংস্থা ‘অল বেঙ্গল শ্লিংশট অ্যাসোসিয়েশন’। তবে এতদিন বাংলার কোথাও কোনও গুলতি ক্লাব ছিল না, যেখানে ছেলে-মেয়েরা নিয়মিত গিয়ে গুলতি অভ্যাস করতে পারে। সেই অভাব মেটাতেই হাওড়া জেলার আমতায় এই গুলতি ক্লাব তৈরির প্রয়াস বলে জানালেন সংস্থার সভাপতি মুকুন্দ কোলে।

আমতার চক শ্রীরামপুর কালীমন্দির সংলগ্ন মাঠে ২ নভেম্বর রবিবার সকাল ১১টায় এই সদ্যোজাত ক্লাবের উদ্বোধন হয়। সেখানে ১০ মিটার এবং ১৫ মিটার গুলতির মাঠ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও হবে। ‘অল বেঙ্গল শ্লিংশট অ্যাসোসিয়েশন’-এর লক্ষ্য হল, ২০৩০ সালের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি করে গুলতি ক্লাব গড়ে তোলা। ক্লাব খোলা থাকবে প্রতি রবিবার সকাল ১১টা থেকে। সংস্থার সচিব অনাথ পোড়ে এবং কোষাধ্যক্ষ অলোক দলুই জানাচ্ছেন, ‘অল বেঙ্গল শ্লিংশট অ্যাসোসিয়েশন’ একটি রেজিস্টার্ড ট্রাস্ট। গুলতি ক্লাবের প্রধান উদ্যোক্তা মুকুন্দ কোলে, যিনি একক উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের গুলতি উদ্ভাবন করেছেন। যেমন তীর মারা গুলতি এবং মাছ ধরা গুলতি ইত্যাদি। তার মধ্যে কয়েকটির পেটেন্ট নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
কারা এই সংস্থার সদস্য হতে পারবেন? পশ্চিমবঙ্গের যে-কোনও জেলার বাসিন্দা, যিনি সংস্থার নিয়মাবলি মেনে গুলতি খেলতে আগ্রহী, তিনিই সদস্য হতে পারবেন। জানা গিয়েছে, প্রতিবছর গুলতি নিয়ে জাতীয় স্তরে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতায় জিতলে জাতীয় স্তরে খেলার ছাড়পত্র মেলে। এবং জাতীয় স্তরে জিতলে আন্তর্জাতিক স্তরে যাওয়া যায়।
এদিকে, গুলতি খেলার আন্তর্জাতিক নিয়ামক সংস্থা হচ্ছে, ‘ওয়ার্ল্ড শ্লিংশট ফেডারেশন’ চেষ্টা করছে এই খেলাকে অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্ত করার। গুলতি খেলার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবছর। ২০২৪-এ হয়েছিল চীনের সাংহাই শহরের জিয়াডিং জেলায়। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন চীনের ইয়াং সিহাই।
আরও পড়ুন







