অর্থনীতি কোমায়, বিদেশি ঋণভারে নুয়ে পড়ছে দেশ
নতুন পয়গাম,
নয়াদিল্লি, ১৮ সেপ্টেম্বর: এই মুহূর্তে দেশের যে কোন প্রান্তে একটা শিশু জন্মালে তার মাথার ওপর চেপে বসে ১ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা ঋণের বোঝা! রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার পরিসংখ্যান বলছে, গত মাস পর্যন্ত বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ৭৩৬ বিলিয়ন ডলার। তার ওপর রয়েছে সুদের বোঝা। বিশেষজ্ঞদের দাবি, চলতি অর্থবর্ষেই দেশি-বিদেশি ঋণ এবং তার সুদ মিলিয়ে অঙ্কটা দাঁড়াবে আনুমানিক ১২ লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি টাকা।
সরকার এবং তার তল্পিবাহকরা অহরহ প্রচার করেই চলেছে, মোদির আমলে নাকি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হতে চলেছে ভারতবর্ষ। অনতি বিলম্বেই দেশের অর্থনীতি ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করবে। এখন দেখা যাচ্ছে, সবটাই ফাঁকা আওয়াজ। এই মিথ্যা ভাষণের আড়ালে দেশের অর্থনীতি কোমায় চলে যাচ্ছে। কারণ, বিশেষ করে বিদেশি ঋণের ভারে নুয়ে পড়ছে দেশ। অর্থাৎ ধার করে ঘি খেয়ে লম্বা ঢেঁকুর তুলছেন মোদি, নির্মলা সীতারামনরা। চোখে আঙুল দিয়ে এসব বাস্তবতা দেখিয়ে দিচ্ছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রিপোর্ট।
প্রধানমন্ত্রীর ৭৫ বছরের জন্মদিন উপলক্ষে টানা ১৫ দিন ধরে দেশজুড়ে প্রদর্শনীর নামে সরকারি অর্থের মোচ্ছব শুরু হয়েছে। অথচ দেশের অর্থনীতির কঙ্কালসার চেহারা বেরিয়ে পড়ছে।
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গত ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রকের হিসেব ছিল, ২০২৪-২৫ বর্ষে দেশের মোট ঋণের বোঝা হবে ১৮১ লক্ষ কোটি টাকা। চলতি অর্থবর্ষ ২০২৫-২৬ শেষে তা হতে পারে আনুমানিক ১৯৬ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু তার ৬ মাস আগেই পেশ করা কেন্দ্র সরকারের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৬ এর ৩১ মার্চে তা গিয়ে ঋণ দাঁড়াবে ২০০ লক্ষ কোটি টাকায়। তখন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন হাস্যকর যুক্তি দিয়ে বলেছিলেন, টাকার দাম কমেনি, ডলারের মূল্য বেড়েছে। অথচ সত্যটা হল, ডলারের তুলনায় টাকার দামে বিরাট পতনের কারণেই দেশের ঘাড়ে ঋণের বোঝা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রথম বার ক্ষমতায় আসার সময় দেশের ঋণ ছিল ৭০ লক্ষ কোটি টাকা, যা জিডিপি’র ৫১.৫ শতাংশ। মোদির আমলে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় তিনগুণ বা ২০০ লক্ষ কোটি টাকা, যা জিডিপি’র ৫৮ শতাংশ।








