দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান! সড়ক সংস্কারে উদ্যোগ নিল জেলা প্রশাসন
প্রীতিময় সরখেল, নতুন পয়গাম, ধূপগুড়ি:
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারে উদ্যোগ নিল জেলা প্রশাসন। প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হচ্ছে সাড়ে নয় কিলোমিটার রাস্তা। চার মাসের মধ্যেই কাজ সম্পূর্ণ হওয়ায় খুশির হাওয়া গাদং সহ আশপাশের গ্রামগুলিতে।
দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে হাসপাতাল সংলগ্ন ধূপগুড়ি–ফালাকাটা সড়ক থেকে গাদং গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা ছিল শোচনীয়। রাস্তার উপরের চাদর উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছিল অসংখ্য বড় বড় গর্ত। বর্ষাকালে জল জমে যাওয়ায় কোথায় ভালো রাস্তা আর কোথায় গর্ত—তা বোঝাই যেত না। ফলে প্রায়শই দুর্ঘটনার কবলে পড়ত যানবাহন। দুর্ভোগে পড়তেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রোগী, স্কুল–কলেজ পড়ুয়া এবং অন্তঃসত্ত্বা মহিলারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তা সংস্কারের দাবিতে একাধিকবার আন্দোলন হয়েছে। কখনও রাস্তা অবরোধ, কখনও প্রশাসনিক দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হলেও বছরের পর বছর কোনও কাজ হয়নি। অবশেষে বিষয়টি জলপাইগুড়ি জেলার জেলাশাসক শামা পারভীনের নজরে আসতেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং দ্রুত সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই সড়কটি দুটি জেলাকে যুক্ত করে। একদিকে আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ও মাদারিহাট ব্লকের বহু মানুষ, অন্যদিকে ধূপগুড়ি মহকুমার বাসিন্দাদের বড় অংশ এই রাস্তার উপর নির্ভরশীল। গাদং এক ও দুই, ধনিরামপুর, ঝালটিয়া, এথেলবাড়ি, তেলিপাড়া, নরসিংপুর-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ এই পথেই যাতায়াত করেন।
রাস্তার অবস্থা এতটাই করুণ ছিল যে, অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রে টোটো থেকে নামিয়ে খারাপ অংশ পায়ে হেঁটে পার করিয়ে আবার গাড়িতে তোলা হতো। পাশাপাশি এই রাস্তার উপরেই রয়েছে একাধিক সরকারি ও বেসরকারি স্কুল, মাদ্রাসা এবং গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন হয়েছে। নতুন করে পিচঢালা মসৃণ রাস্তা পেয়ে স্বস্তিতে এলাকাবাসী। নতুন বছরের মুখে কার্যত নতুন রাস্তার উপহার পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন গাদং এলাকার মানুষজন।
বাসিন্দা সমন্বিতা সেন বলেন, “রাস্তাটির দীর্ঘদিন খারাপ ছিল, এখন ভালো হয়েছে। এমন অবস্থায় ছিল যে রোগীদের হাঁটিয়ে পাড়া পার করতে হতো। কোনও টোটো অ্যাম্বুলেন্সে রাস্তা দিয়ে যেতে চাইত না। স্কুল–কলেজ যাতায়াত করা বিপজ্জনক হয়ে পড়েছিল।”
এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াতকারী শিক্ষক আব্দুল সাত্তার বলেন, “প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই জেলা প্রশাসন এবং রাজ্য সরকারকে। প্রায় ৯ কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘ সময় ধরে খারাপ অবস্থায় পড়ে থাকলেও কেউ নজর দেয়নি এর আগে। জেলাশাসক ম্যাডাম বিষয়টি জানার পরে উদ্যোগ নিয়ে রাস্তাটি তৈরি করিয়েছেন এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে। প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয় করে।”
স্কুল পড়ুয়া লক্ষী সরকার বলেন, “রাস্তা এত খারাপ ছিল যে বর্ষাকালে স্কুলে যেতে পারতাম না। মাঝেমধ্যেই টোটো উল্টে যেত। রাস্তাটা তৈরি হয়ে গেছে, এখন আমরা বর্ষাকালে স্কুল যেতে পারব।”
টোটো চালক ইন্দাজুল হক বলেন, “বেশ কয়েক বছর ধরে রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় পড়েছিল। বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছিল, মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনা ঘটত, টোটো এবং গাড়ির যন্ত্রাংশে বহু ক্ষতি হয়েছে আমাদের। রাস্তাটি ঠিক করায় আমরা খুশি। বহুদিনের দুর্ভোগ কাটল আমাদের।”
জলপাইগুড়ি জেলার শাসক শামা পারভীন বলেন, “বর্ষার সময় এই রাস্তাটি খুবই খারাপ ছিল, বিষয়টি আমরা আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারি। এরপরে জেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে রাস্তাটি তৈরি করে। সাড়ে নয় কোটি টাকা খরচ করে ৯.৫ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। ধূপগুড়ি–ফালাকাটা রোড থেকে গাদং অঞ্চল অফিস পর্যন্ত এই রাস্তা দুটি জেলাকে যুক্ত করে। রাস্তা তৈরি হওয়ায় প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ উপকৃত হলেন।”







