আবুল কাশেমের মৃত্যুতে হরিশ্চন্দ্রপুরে একটি যুগের অবসান
উমার ফারুক, নতুন পয়গাম, মালদা:
মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরের রাজনীতিতে একটি যুগের অবসান। পাঁচ বারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া। হরিশ্চন্দ্রপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি তথা বর্তমান বিরোধী দল নেতা আবুল কাশেমের মৃত্যু যেন ইন্দ্র পতন । তাঁর শেষকৃত্য শুক্রবার বিকেলে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যু কালে তাঁর বয়স ছিল ৭০ বছর। তিনি দুই চিকিৎসক পুত্র,এক কন্যা,স্ত্রী সহ অগনিত গুণমুগ্ধ রেখে গেছেন। এদিন হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের মশলদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের তালগাছি গ্রামে তাঁকে কবরস্থ করা হয়। তাঁর নামাজে জানাযায় মানুষের ঢল নামে। এদিন তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তালগাছি গ্রামে জাতিধর্ম নির্বিশেষে মানুষ ভিড় করেন।
জানা গিয়েছে, আবুল কাশেম পাঁচবার হরিশ্চন্দ্রপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য নির্বাচিত হন জাতীয় কংগ্রেসের প্রতীকে। তিনি ১৯৯৩ সালে হরিশ্চন্দ্রপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সভাপতি মোস্তাক আলমের সঙ্গে। ১৯৯৮ সালে তিনি পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হন। ২০০১ সালে মোস্তাক আলম বিধায়ক নির্বাচিত হলে তিনি সমিতির সহ সভাপতি হিসেবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। ২০০৩ সাল
থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দুই দফায় তিনি সমিতির সভাপতি হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেন। ২০২৩ সালে তিনি সমিতির বিরোধী দল নেতা নির্বাচিত হন এবং আমৃত্যু তিনি এই পদে ছিলেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে সমিতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি দলকে দক্ষতার সঙ্গে নেতৃত্ব দেন। তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে আমৃত্যু হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এদিন তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক জ্ঞাপন করেন হরিশ্চন্দ্রপুরের প্রাক্তন বিধায়ক প্রদেশ কংগ্রেস নেতা মোস্তাক আলম । তিনি বলেন, দলের এক বিশ্বস্ত ও প্রবীণ নেতা ও আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গীকে হারালাম। তিনি দলের একান্ত অনুগত সৈনিক হিসেবে আমৃত্যু কাজ করেছেন। তিনি একজন সৎ আদর্শবান যোগ্য জনপ্রতিনিধি। আজকের দিনে তাঁর মতো আদর্শবান রাজনীতিবিদ বিরল। তাঁর মৃত্যুতে দলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। এদিন তাঁর জানাযায় দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ শরিক হন।








