দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর
নতুন পয়গাম, খান সাহিল মাজহার, বীরভূম: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বীরভূম জেলার দুবরাজপুর বিধানসভা এলাকাকে পাখির চোখ করে বৃহৎ জনসভা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার খয়রাশোল এলাকার গোষ্ঠডাঙাল মাঠে আয়োজিত এই জনসভায় দুবরাজপুর, লাভপুর, বোলপুর ও রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে এক মঞ্চে উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী প্রচারে জোর দেন তিনি। সভায় বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, লক্ষ্মীর ভান্ডার, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী, কৃষকবন্ধু সহ একাধিক সামাজিক প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। গ্রামীণ রাস্তা উন্নয়ন, পানীয় জল প্রকল্প, বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্প্রসারণ, ছাত্রছাত্রীদের জন্য শিক্ষামূলক সহায়তা এবং মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি দুয়ারে সরকার কর্মসূচির মাধ্যমে প্রশাসনিক পরিষেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বাংলার প্রাপ্য অর্থ আটকে রাখার অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক আক্রমণও শানান তিনি এবং উন্নয়নের ধারাকে বজায় রাখতে তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থনের আহ্বান জানান।
সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এসআরডিএ চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডল সহ দুই লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ও জেলা নেতৃত্ব। নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দেওয়া হয় কর্মী-সমর্থকদের। সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, এবারের নির্বাচনে মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের ভালোবাসা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষেই রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। রামনবমী প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, পথে আসার সময় ছোট ছোট শিশুদের হাতে অস্ত্র সদৃশ সামগ্রী দেখা যায়। তাদের ডেকে কথা বললে অনেকেই জানত না রামনবমীর তাৎপর্য কী। তাঁর অভিযোগ, অল্পবয়সী শিশুদের ভুল পথে পরিচালিত করা হচ্ছে, যা সমাজের পক্ষে উদ্বেগজনক। নির্বাচনের প্রাক্কালে এই জনসভাকে রাজনৈতিক মহল তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখছে এবং দুবরাজপুর সহ পার্শ্ববর্তী বিধানসভাগুলিতে নির্বাচনী লড়াইকে আরও জোরদার করার বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।








