কেন্দ্রের দাবি, মূল্যবৃদ্ধি মাত্র ১ শতাংশ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সমীক্ষায় অস্বস্তিতে কেন্দ্র সরকার
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শত চেষ্টাতেও খুচরো পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার কমানো যায়নি। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যবৃদ্ধিতে রাশ দূরের গ্রহে পৌঁছে গিয়েছে। একের পর এক নীতি নির্ধারণ কমিটির বৈঠকেও স্বীকার করা হয়েছে, খাদ্য দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণেই সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধি কমানো যাচ্ছে না। এই চিত্র ছিল সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। হঠাৎ করে অক্টোবরের পর থেকে মূল্যবৃদ্ধি ক্রমাগত নিম্নমুখী হওয়ার দাবি করছে কেন্দ্র সরকার। শেষ যে পরিসংখ্যান পাওয়া গিয়েছে, তাতে নাকি ২ শতাংশেরও নীচে চলে গিয়েছে মূল্যবৃদ্ধির হার। মানুষ এতে চরম ধন্দে। কারণ, বাজারের সঙ্গে কেন্দ্র সরকারের দাবি আদৌ মিলছে না বা ধোপে টিকছে না! সেটাই স্পষ্ট হয়েছে ২০২৬ সালের শুরুতে রিজার্ভ ব্যাংকের রিপোর্টে।
এতে সাফ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, সরকারি পরিসংখ্যানের সঙ্গে বাস্তব চিত্রের মিল নেই। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সার্ভে রিপোর্ট বলছে, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। যখন সরকারি খাতায় মূল্যবৃদ্ধির হার ১ শতাংশ, তখন সাধারণ মানুষের খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যসামগ্রী কেনার হার ৬.৬ শতাংশের সমতুল। সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, অন্তত এপ্রিল পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির হার বেড়ে হবে ৭-৮ শতাংশ। খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্যের মূল্য কিন্তু নামমাত্র বৃদ্ধি পাচ্ছে না; বরং লাফিয়ে বাড়ছে।
জানা গিয়েছে, এই বৈপরীত্য বিরাট তথ্যে গরমিল ধামাচাপা দিতে কেন্দ্র সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে বদলে দিতে চলেছে মূল্যবদ্ধির হার নির্ধারণের পদ্ধতি। এতকাল নিয়ম ছিল, একটি নির্দিষ্ট বছরকে ভিত্তিবর্ষ হিসাবে ধরে মূল্যবৃদ্ধি নিরূপণ করা হয়। এখন ২০১২ সালকে ধরা হয় ভিত্তিবর্ষ। এবার ১৪ বছর পর সেই প্রক্রিয়া ও ভিত্তিবর্ষ বদলে যাচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ভিত্তিবর্ষ হবে ২০২৪ সাল। অর্থাৎ ২০২৪ সালে যে মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল, তার তুলনায় এখন মূল্যবৃদ্ধির হার কত, সেটাই হবে নতুন হিসাব। স্বাভাবিকভাবেই আগামী দিনে মূল্যবৃদ্ধির হার অনেকটা কম করে দেখানো যাবে। সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে যতই মূল্যবৃদ্ধির আঁচ লাগুক, মূল্যবৃদ্ধির হারের সরকারি রিপোর্টে তার প্রতিফলন দেখা যাবে না। উধাও হয়ে যাবে বাস্তবের অগ্নিময় চিত্র । একেই বলে এক কলমের খোঁচায় কী না করা যায়। সেটাই ফের প্রমাণ করবে কেন্দ্র সরকার।








