তীরে এসে ডুবলো তরী; ইংল্যান্ডের কাছে হেরে সেমির স্বপ্ন ফিকে হচ্ছে ভারতের
নিজস্ব সংবাদদাতা, নতুন পয়গাম
সিনারিও ছিল এমন- ৮.৫ ওভার মানে প্রায় ৯ ওভারে বাকি ছিল মাত্র ৫৪ রান,হাতে সাত সাতটা উইকেট।যেকোন দলই এখান থেকে হাসতে হাসতে ম্যাচ জিতবে।কিন্তু না,স্মৃতি আউট হতেই রানের চাকা হঠাতই আটকে গেল। মাত্র ৪ রানে হেরে সেমির পথ কঠিন করে ফেলল হরমনপ্রীতের ভারত।
আইসিসি মহিলা বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে জয়ের পর আচমকা ধাক্কা খায় ভারত। শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারায় তারা।কিন্তু তারপর হারের হ্যাটট্রিকে সেমির স্বপ্নে বড়সড় ধাক্কা লাগলো।এমনিতে কাল বিপরীতে ছিল এমন একটা দল, যারা বিশ্বকাপে একটা ম্যাচও হারেনি। সেই ইংল্যান্ডের কাছে হরমনপ্রীত-স্মৃতির লড়াই সত্ত্বেও ইংল্যান্ডের কাছে মাত্র ৪ রানে হারল ভারত। হারের হ্যাটট্রিকে যেমন সেমির লড়াইয়ে সমস্যায় পড়ল ওমেন্স ইন ব্লু, তেমনই শেষ চার নিশ্চিত করে ফেলল ইংল্যান্ড।
সেমিফাইনালে উঠতে হলে, শেষ তিনটি ম্যাচের মধ্যে ভারতকে দু’টি ম্যাচে জিততেই হবে। এই অঙ্ক মাথায় নিয়ে ইন্দোরে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নেমেছিল ভারত। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ব্রিটিশ অধিনায়ক ন্যাট স্কিভার ব্রান্ট। শুরুতে রানের গতি না তুললেও উইকেট হারায়নি ইংল্যান্ড। তামসিন বিউমন্ট বা অ্যামি জোনসদের আটকানো গেলেও হেথার নাইটের ইনিংসের কোনও জবাব ছিল না ভারতের বোলিংয়ের কাছে। শ্রীচরণি দুটি উইকেট নেন। আর দীপ্তি শর্মার ৫১ রানে ৪ উইকেট ছাড়া কেউই দাগ কাটতে পারেননি। এই ম্যাচে ছয় বোলারের স্ট্রাটেজি নিয়ে নেমেছিলেন হরমনপ্রীত। তাতেও নাইটের সেঞ্চুরি আটকানো যায়নি। ৯১ বলে ১০৯ রান করে আউট রান আউট হন তিনি। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ড ২৮৮ রান করে।
ম্যাচ জিততে হলে ইতিহাস তৈরি করার দায়িত্ব ছিল স্মৃতিদের উপর। কারণ, বিশ্বকাপে কখনও এত রান তাড়া করে জেতেনি ভারত। সেই লক্ষ্যে নেমে শুরুতেই ধাক্কা। বিশ্বকাপে ভালো ফর্মে থাকা প্রতীকা রাওয়াল ৬ রানে আউট হন। রান পাননি হরলিন দেওলও। বরং ভারতকে টানেন দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হরমনপ্রীত কউর ও স্মৃতি মন্ধানা। বিশ্বকাপে হরমনপ্রীতের ব্যাটে রানের দেখা ছিল না। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জ্বলে উঠলেন ভারতের অধিনায়ক। ৭০ বলে ৭০ রান করে আউট হন হরমনপ্রীত। হাফসেঞ্চুরি করেন দীপ্তি শর্মাও।
তবে তাঁদের ব্যাটিংও যথেষ্ট ছিল না ভারতকে জেতানোর জন্য। এক বোলার বেশি খেলানোয় জেমাইমা রদ্রিগেজ দলে ছিলেন না। ফলে শেষের দিকে ফিনিশারের কাজটা কেউ করতে পারলেন না। রান পাননি বাংলার রিচা। স্মৃতি-হরমনরা ফিরে যাওয়ার পর রানের গতিও ক্রমশ কমতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ৪ রানে হেরে সেমির রাস্তায় হোঁচট খেল ভারত। এই মুহূর্তে ৫ ম্যাচে হরমনপ্রীতদের পয়েন্ট ৪। লিগ টেবিলে চতুর্থ স্থানে আছে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের পয়েন্টও সমান, তবে তারা নেট রান রেটে পিছিয়ে। ২৩ অক্টোবর কিউয়িদের বিরুদ্ধেই ভারতের ম্যাচ। সেই ম্যাচেই নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে কোন দল সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে যাবে।
তবে নিউজিল্যান্ডের সাথে হারলেও সেমির দরজা খোলা থাকবে,কিন্তু তাকিয়ে থাকতে হবে অন্যের দিকে।








