বন্যা দুর্গতদের স্মারকলিপি ঘিরে ধূপগুড়ি বিডিও অফিসে উত্তেজনা
আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি, আহত সিপিআইএম নেতা জয়ন্ত মজুমদার
প্রীতিময় সরখেল, নতুন পয়গাম, ধূপগুড়িঃ
বন্যা দুর্গত এলাকার দাবি-দাওয়া নিয়ে ধূপগুড়ি বিডিও অফিসে স্মারকলিপি জমা দিতে গিয়ে রীতিমতো উত্তেজনা ছড়াল। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে আহত হলেন সিপিআইএম এরিয়া কমিটির সম্পাদক জয়ন্ত মজুমদার। শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়।
গধেয়ারকুঠি গ্রাম পঞ্চায়েতের হোগলারটারি, কুর্শামারি সহ বন্যা বিধ্বস্ত এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে সিপিআইএম নেতৃত্ব ধূপগুড়ি শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ মিছিল করে বিডিও অফিসে পৌঁছান। দ্রুত গৃহনির্মাণ, বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ, ক্ষতিগ্রস্ত ফসল ও বাড়িঘরের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণসহ মোট ১৭ দফা দাবি তুলে ধরতে যান আন্দোলনকারীরা।
কিন্তু বিডিও অফিসের গেটে পৌঁছতেই শুরু হয় তর্কাতর্কি। অভিযোগ, গেট আটকে দাঁড়িয়ে আন্দোলনকারীদের অফিসে ঢুকতে বাধা দেয় পুলিশ। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন উপস্থিত মানুষজন। মুহূর্তে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। বাধা উপেক্ষা করে জোরপূর্বক মূল গেট খুলে ভেতরে ঢোকে বন্যা দুর্গতরা। সেখানেও পুলিশের সঙ্গে নতুন করে বচসা ও হাতাহাতি বাধে। এই সময় পুলিশের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে হাত কেটে আহত হন সিপিআইএম নেতা জয়ন্ত মজুমদার। পরিস্থিতি কিছুক্ষণ উত্তপ্ত থাকলেও পরে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল বিডিওর হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জলঢাকা নদীর জলে প্লাবিত হয়ে যাদের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, ফসল নষ্ট হয়েছে তারা এখনো ক্ষতিপূরণ পাননি। কেউ কেউ এসএমএস পেলেও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমেনি বলেও দাবি করেন তারা। আবার অনেকের আংশিক ক্ষতির তুলনায় সুবিধা বেশি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
স্মারকলিপি গ্রহণের পর বিডিও আন্দোলনকারীদের আশ্বাস দেন বন্ধ পানীয় জল সরবরাহ পরের দিন থেকেই পুনরায় চালু করা হবে। যাদের বাড়িঘর পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্ষতিপূরণ মেলেনি, তারা ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিষয়টি বিবেচনা করবে বলেও জানান তিনি।








