ফাইনালের লক্ষ্যে মুম্বইয়ে টিম ইন্ডিয়া, নায়কের মর্যাদা পাচ্ছেন সঞ্জু স্যামসন
নতুন পয়গাম, স্টাফ রিপোর্টার: নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম যতটা অপয়া ভারতের জন্য, ঠিক ততটাই পয়া মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে। এই মাঠেই দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর ওয়ান ডে বিশ্বকাপ এসেছিল। সেই পয়া মাঠেই ফাইনালের টিকিট কনফার্ম করতে সোমবার বিকেলে বানিজ্যনগরীতে পৌঁছালেন সূর্যকুমার যাদব, যশপ্রীত বুমরাহরা। সেখানে তাঁদের ঘিরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে ভিন্ন ছবিও চোখ পড়ল। এতদিন ভারতীয় দলে সঞ্জুর তেমন কদর ছিল না। সেভাবে সমর্থকদের আবেগও ঝরে পড়ত না তাঁর জন্য। কিন্তু ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৫০ বলে ৮৭ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস সঞ্জুর ক্রিকেট জীবন আমুল বদলে দিয়েছে। স্ত্রীর হাত ধরে বিমানবন্দর থেকে বেরনোর সময় তাঁর নামে জয়ধ্বনি দিতে দেখা ক্রিকেট ভক্তদের।
বিমানবন্দর থেকে হোটেলে যাওয়ার পথে টিম ইন্ডিয়ার বাসে অক্ষর প্যাটেলের নেওয়া সঞ্জুর ইন্টারভিউ ভালোই সাড়া ফেলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তবে গলি থেকে সঞ্জুর রাজপথের কামব্যাক মোটেও সুখের ছিল না। অনেক আত্মত্যাগ ও সংকল্পই গড়ে দিয়েছে ফেরার পথ। একটা সময় বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থেকেও তাঁর খেলা নিয়ে দেখা দিয়েছিল সংশয়। খারাপ সময় কাটিয়ে ফর্মে ফেরার জন্য তিনি শুধু নেটে সময় দেননি, একই সঙ্গে নিয়েছেন কঠিন পদক্ষেপ। ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে রেখেছেন নিজেকে। আর সেটা মনঃসংযোগ বাড়াতে।
ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালের টিকিট পাকা করেছে ভারত। ক্রিকেটারদের মনোবল তুঙ্গে। বৃহস্পতিবার শেষ চারের লড়াইয়ে সূর্যদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। হ্যারি ব্রুকের নেতৃত্বে দুরন্ত ফর্মে ইংরেজরা। তবে ওয়াংখেড়ে ভারতের পয়মন্ত মাঠ। এখানেই ২০১১ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে ওয়ান ডে বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। তেইশের সেমি-ফাইনালেও শেষ হাসি হেসেছিল টিম ইন্ডিয়া। তাই বিশ্বজয়ের মঞ্চে ব্রিটিশ বধে প্রস্তুত সূর্য ব্রিগেড।
তবে এই মাঠে ২০১৬ সালে টি-২০ বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে হেরেছিল ভারত। আবারও বিশের বিশ্বকাপের শেষ চারের লড়াই শচীনের পাড়ায়। কোচ গৌতম গম্ভীর সতর্ক। তবে দলের খেলায় তিনি খুশি। সঞ্জুর প্রশংসা করতে গিয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটারারের তকমাও দেন তাঁকে। গম্ভীরের সাফ কথা, ‘আমরা এখন শুধু দুটো ম্যাচ নিয়ে ভাবছি। মাথার মধ্যে আর কিছু ঢোকাতে চাই না। দলের মনোবল তুঙ্গে। ইংল্যান্ড ভালো দল। জানি, লড়াই সহজ হবে না। তবে আমার ছেলেরা সেরা পারফরম্যান্স তুলে ধরার জন্য তৈরি।’তবে আশার কথা, ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার একেবারেই ফর্মে নেই।এটার ফায়দা ভারতকে তুলতেই হবে।








