সোনালি মামলায় কেন্দ্রকে সুপ্রিম বার্তা ‘বাকিদেরকেও দ্রুত দেশে ফেরানোর পথ খুঁজুন’
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
সোনালি খাতুন মামলায় বাংলাদেশে আটকে থাকা সোনালির স্বামী-সহ আরও চারজন ভারতীয় নাগরিককে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রকে স্পষ্ট নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার শীর্ষ আদালত মানবিকতার দিক থেকে বিষয়টি বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে এবং এই চারজনের সমস্ত নথিপত্র সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার কাছে দ্রুত জমা দিতে বলা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে আগামী ৬ জানুয়ারি।
শুক্রবার মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত জানতে চান, সোনালি খাতুনকে ইতিমধ্যেই দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে কি না এবং তাঁদের আর্থিক ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে কি না। সোনালির বাবা ভাদু শেখ ও পরিবারের আইনজীবী আদালতকে জানান, সোনালির স্বামী এবং সুইটি বিবি-সহ মোট চারজন এখনও বাংলাদেশে আটকে রয়েছেন। তাঁদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন জানানো হয়।
সর্বোচ্চ আদালত এর পরই নির্দেশ দেয়, বাংলাদেশে আটকে থাকা ওই চারজনের সব নথি দ্রুত জমা দিতে হবে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সেই নথি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবেন যে, মানবিক কারণে কাউকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব কি না।
এদিন রাজ্যের তরফে আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতকে জানান, আটকে থাকা প্রত্যেকের ভেরিফিকেশন ইতিমধ্যেই রাজ্যের কাছে রয়েছে। সেই সময় সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা তীর্যক মন্তব্য করলে সিব্বল পালটা মন্তব্য করেন, “ওদের বাংলাদেশে পাঠানোর আগে আপনাদেরই ভেরিফিকেশন করা উচিত ছিল। ৩০ দিন ধরে কোনো ভেরিফিকেশন করা হয়নি।” সোনালির বাবার আইনজীবী এ প্রসঙ্গে আদালতে বলেন, বাংলাদেশের সীমান্তপার ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সুরক্ষিত নয়, তাই দ্রুত মামলার শুনানি জরুরি।
শুনানির সময় সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সংবাদমাধ্যমে সোনালি বিবির সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে অভিযোগ করেন, একটি মামলা ঘিরে মিডিয়ায় ‘ন্যারেটিভ’ তৈরি করা হচ্ছে। এর জবাবে আদালত পরিষ্কার জানায়, কোনো ন্যারেটিভই আদালতকে প্রভাবিত করতে পারবে না। তবে একইসঙ্গে বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, বিচারাধীন মামলায় রিপোর্টিং করার ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।








