স্ত্রীকে লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির নোটিস, করিমপুরে আতঙ্কে আত্মঘাতী গৃহ শিক্ষক, নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করল পরিবার
নতুন পয়গাম, করিমপুর: স্ত্রীকে দেশছাড়া হতে হবে! সেই আতঙ্কে আত্মঘাতী হলেন এক গৃহ শিক্ষক। মৃত শিক্ষকের নাম ফিজুর খান (৫৪)। রবিবার রাত আটটা নাগাদ তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে করিমপুর গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করে। নদীয়ার করিমপুরের হোগলবেড়িয়ার থানার কুচাইডাঙ্গা গ্রামের মর্মান্তিক এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। বাড়িতে গৃহ শিক্ষকতার পাশাপাশি ভ্যানে করে জল বিক্রি করে সংসার চালাতেন তিনি। বাড়িতে স্ত্রী ছাড়াও অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া একমাত্র মেয়ে আছে। একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে অথৈ জলে পড়েছে পরিবারটি। স্ত্রী পারভিনা বিবি জানান, গত ১৬ জানুয়ারি আমার নামে শুনানির নোটিশ আসে। তারপর থেকেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন স্বামী। সেই কারণেই তিনি গলায় দড়ি দিয়ে নিজেকে শেষ করে দিলেন। সরকার নোটিস না দিলে আমার স্বামী মরতেন না বলে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ফুজির খানের ২০০২ এ নাম ছিল। কিন্তু স্ত্রী পারভীনা বিবিকে এসআইআর-এর ৬ সন্তানের লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি দেখিয়ে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তারপর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ফিজুর খান। স্ত্রীর বয়স এখন ৩২ বছর। স্বভাবতই বয়স না হওয়ায় ২০০২ এর ভোটার তালিকায় নামও ছিল না। আবার পড়াশুনাও করেন নি। তাহলে হেয়ারিংয়ে কি ডকুমেন্টস দেখাবেন! ইত্যাদি নানা চিন্তা থেকেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি পরিবারের। ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা কুচাইডাঙ্গা গ্রাম। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে হোগলবেড়িয়া থানার পুলিশ। এদিকে কাকার মৃত্যুতে কেন্দ্র সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করে মৃতের ভাইপো রিয়াজুল হক খান জানান, কাকা উচ্চ মাধ্যমিক পাস। দীর্ঘদিন ধরে টিউশনি পড়িয়ে কোন রকমে সংসার চালাতেন। শান্ত নম্র স্বভাবের মানুষ। কাকীর নোটিস আসার পর একপ্রকার নাওয়া-খাওয়া ভুলে সারাদিন ওই নিয়ে চিন্তা করতেন। এই মৃত্যুর দায় নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে। এখন মা মেয়ের কী হবে! এলাকাবাসী চাইছে ওদের ক্ষতিপূরণ দিক সরকার।








