সুন্দরবনে বুকিংয়ে কালোবাজারি রুখতে পদক্ষেপ
নতুন নিয়ম চালু করল সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ
উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, নতুন পয়গাম, কুলতলি:
সুন্দরবনের সৌন্দর্যের টানে পুজোর ছুটিতে পর্যটকরা ছুটে আসে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। অনলাইন মাধ্যমে আগেভাগেই হোটেল ও বোট বুক করে রাখতে হয়। এই ভরা মরসুমে পর্যটকদের চাহিদা তুঙ্গে থাকে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু এজেন্ট নেমে পড়ে বুকিং কালোবাজারিতে। ফলে পর্যটকদের অধিক মূল্যে পরিষেবা গুলো কিনতে হয়।
বোট বুকিংয়ে কালোবাজারি রুখতে নয়া নিয়ম চালু করল সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ (এসটিআর)। এতদিন অনলাইনে যে কেউ অন্যের বোট বুকিং করে রাখত। এতে প্রকৃত বোট মালিকদের অজান্তেই বুকিং হয়ে যেত এবং দেখা দিত বিভ্রান্তি।
এবার থেকে এই প্রক্রিয়ায় আসছে বদল। সোমবার থেকে চালু হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বোট বুকিং হবে ওটিপি ভিত্তিক। অর্থাৎ, বুকিংয়ের সময় সংশ্লিষ্ট বোট মালিকের ফোনে ওটিপি যাবে, সেটি দিয়ে অনলাইনে বুকিং সম্পূর্ণ করতে হবে।
এছাড়া, বুকিং করেও যদি কোনও বোট জঙ্গলে না যায়, বন দফতর কড়া ব্যবস্থা নেবে। একই বোট মালিকের ক্ষেত্রে এ ঘটনা দু’বার ঘটলে, তার লাইসেন্স-সার্টিফিকেট এক মাসের জন্য স্থগিত করা হবে।
বর্তমান নিয়মে প্রতিদিন সুন্দরবনে ১২০টি বোট পর্যটকদের নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু অভিযোগ ছিল, এক শ্রেণির অসাধু মানুষ পর্যটক না থাকলেও বুকিং স্লট আটকে রাখতেন, ফলে প্রকৃত পর্যটকরা বঞ্চিত হতেন।
নতুন ব্যবস্থায় বোট মালিকরা শেষ মুহূর্তে যাত্রীসংখ্যা পরিবর্তন করলে তা অনলাইনে সংশোধন করতে পারবেন। এছাড়া, চালু হচ্ছে ‘ওয়েটিং লিস্ট’ ব্যবস্থা। প্রতিদিন ১২০টি বোটের বুকিং পূর্ণ হয়ে গেলে আরও ২৮টি বোটের নাম এই তালিকায় থাকবে। কোনও কারণে আগে বুক করা বোট বাতিল হলে ওয়েটিং লিস্টে থাকা বোট সেই জায়গা পূরণ করবে।
সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের এক আধিকারিক বলেন, “বোট বুকিংয়ে কালোবাজারি বন্ধ ও পর্যটকদের সুবিধা নিশ্চিত করতেই এই পরিবর্তন।”







