বিএলও রিঙ্কু তরফদারের আত্মহত্যা নিয়ে উত্তাল রাজ্য
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ এসডিপিআই নেত্রী শবনম মুস্তারীর
নতুন পয়গাম, কলকাতা: নদিয়ার কৃষ্ণনগরে বিএলও রিঙ্কু তরফদারের মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। দায়িত্বের অতিরিক্ত চাপ, প্রশাসনিক তদারকির নিপীড়ন এবং নির্বাচন কমিশনের “অযৌক্তিক” SIR প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধেই মৃত্যুর আগে দুই পাতার সুইসাইড নোটে স্পষ্ট অভিযোগ রেখে গেছেন এই মহিলা শিক্ষক।
রিঙ্কুর চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে— কাজ শেখানোর কোনও সুব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও ধারাবাহিক চাপ, অসহযোগিতা, ভয় দেখানো এবং ব্যক্তিগত জীবনে আঘাত হানা পরিস্থিতির জন্য তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। চিঠির প্রথম লাইনেই তাঁর অনুরোধ— “বাবার যত্ন নিস”; আর শেষ লাইনটি আরও ভয়াবহ— “আমার মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী।”
উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বছরে বিভিন্ন জেলায় নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মোট ২৮ জন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে দাবি উঠেছে। রিঙ্কুর চিঠি সেই অভিযোগ আরও জোরালো করেছে।
এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া (SDPI) এই ঘটনাকে “গণতন্ত্রের নামে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের নির্মমতম উদাহরণ” বলে আখ্যা দিয়েছে। দলের রাজ্য নেত্রী শবনম মুস্তারী স্পষ্ট মন্তব্য করেন— “রিঙ্কু তরফদার সহ মোট ২৮ জনের মৃত্যুর দায় নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে। কমিশন আজ বিজেপির রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষ এবং বুথ-স্তরের BLO-দের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে।”
শবনমের অভিযোগ, দীর্ঘমেয়াদী SIR প্রক্রিয়াকে অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করার জন্য কমিশন মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ওপর অসহনীয় চাপ সৃষ্টি করছে। এতে কর্মীদের মানবিক কাজের পরিবেশ ভেঙে পড়ছে এবং তারা শারীরিক-মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।
এসডিপিআইয়ের দাবি—
- ২০০২ সালের পদ্ধতিতে ও ২০২৪-এর ভোটার তালিকা মান্য রেখে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে SIR প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে
- বিএলও ও অন্যান্য বুথকর্মীদের মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে
- কাজের চাপ যুক্তিসঙ্গতভাবে বণ্টন করতে হবে
- রিঙ্কু তরফদারের পরিবার সহ মৃত কর্মীদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে
- নিপীড়নমূলক আচরণের জন্য দায়ী নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে হবে
রিঙ্কু তরফদারের মৃত্যুর পর বিরোধী দল থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মী সংগঠনের পক্ষেও কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে পড়ছে। রাজ্যের শিক্ষা ও প্রশাসনিক মহলেও প্রশ্ন উঠেছে— নির্বাচনকেন্দ্রিক দায়িত্ব পালনের নামে কর্মীদের ওপর এই ধরনের চাপ কতটা গ্রহণযোগ্য?
ঘটনার তদন্ত চললেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা মহলে সংশয় দানা বেঁধেছে। রিঙ্কুর মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার প্রশ্নে রাজ্যজুড়ে ক্ষোভের ঢেউ এখনও থামেনি।







