এসআইআর: আতঙ্কে মতুয়া-রাজবংশী, আদিবাসী, মূলনিবাসী ও সংখ্যালঘুরা
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
সোমবার রাত ১২টার পরই ‘ফ্রিজ’ করা হয়েছে রাজ্যের ভোটার তালিকা। কয়েক মাস পরেই এ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। বিহারের ফরমুলাতেই পশ্চিমবঙ্গ সহ এক ডজন রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। একমাত্র ব্যতিক্রম অসম। এই রাজ্যেও আগামী বছর আছে। কিন্তু কিছু বিশেষ কারণ দেখিয়ে উত্তর পূর্বের এই বিজেপি শাসিত রাজ্যটিকে এসআইআর থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এসআইআর নিয়ে এরাজ্যের বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ, আশঙ্কা, ত্রাসের আবহ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু, মতুয়া, রাজবংশী, আদিবাসী, উপজাতি, মূলনিবাসী বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। এভাবে নানান ইস্যুতে নানা সময় বার বার হয়রানির জন্য বিজেপিকে তারা কাঠগড়ায় তুলে মুন্ডুপাত করছে।

এইসব অনগ্রসর, পিছিয়েপড়া মানুষদের আতঙ্কের আগুনে ঘি ঢালতে বিশেষ করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বারবার বলছেন এসআইআর-এ বাদ যাওয়া ভোটারদের বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করে পুশব্যাক করা হবে। ১ কোটি মানুষ বা অনুপ্রবেশকারীর নাম বাদ যাবে। শুভেন্দুর এসব উসকানি মূলক কথায় ভয় পাচ্ছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষেরা।
বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন মতুয়া-নম-শূদ্ররাও। শান্তনু ঠাকুর, নিশীথ প্রামাণিক, অসীম সরকার সকলেই ভাবছেন তাহলে বিজেপির মহা বিপদ। আর বিজেপি নেতাদের মুখে ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদের আওয়াজ শুনে মতুয়ার পাশাপাশি রাজবংশী, আদিবাসীরাও চরম আতঙ্কে রয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের বাদ দিতেই এই সংশোধন করা হচ্ছে। কিন্তু উপযুক্ত নথির অভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় হিন্দু শরণার্থী ও উদ্বাস্তুরা।

ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও আবার মতুয়া, নমঃশূদ্রদের অনেকেই এখনও নাগরিকত্ব পায়নি। সেই কারণে ওই অংশের মানুষও আশঙ্কায় আছেন। এই পরিস্থিতিতে আশঙ্কা থেকেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুরকে দাবি করতে হয়েছে, এসআইআর-এ নাম বাদ গেলেও মতুয়া উদ্বাস্তুদের সিএএ-এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এ বিষয়ে তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেছেন, ‘‘এসআইআর হলে সবচেয়ে বেশি মতুয়া উদ্বাস্তুদের নাম কাটা যাবে, তা শান্তনু ঠাকুররা জানেন।’’
প্রসঙ্গত, উত্তর ২৪ পরগনা ও নদীয়া জেলায় মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস বেশি। এছাড়াও রাজ্যের আরও অন্যান্য জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে রয়েছেন মতুয়ারা। বনগাঁ, রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রে বড় অংশের মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের ভোটাধিকার রয়েছে। মতুয়াদের আশঙ্কা, এসআইআর হলে আবার তাঁদের হেনস্তার মুখে পড়তে হতে পারে, কাগজপত্র সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া, উত্তরবঙ্গে কোচবিহার-সহ বিস্তীর্ন এলাকায় রাজবংশী সমাজ রয়েছে। যারাও আশঙ্কা প্রকাশ করছে এসআইআরের জেরে তাদের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে। জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় পরিবারের কারও নাম নেই এমন ব্যক্তিদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে পারে কমিশন। ভোটার তালিকায় থাকা সব মৃত এবং অবৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়বে। এ ক্ষেত্রে বিশেষত বাংলাদেশ এবং মায়ানমার থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের ইঙ্গিত করা হয়েছে।








