বিহারে এসআইআর: ফের সুপ্রিম-তোপে নির্বাচন কমিশন
আবেদনের পরেও বাদ পড়া ভোটারদের তালিকা প্রকাশের নির্দেশ
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
বিহারে ভোটরে নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে গেলেও এসআইআর বিতর্ক কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। বিরোধী শিবির থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্টের বারংবার তোপের মুখে পড়ে রীতিমতো শাঁখের করাতের অবস্থা নির্বাচন কমিশনের। দেশের শীর্ষ আদালত এবার কমিশনকে নির্দেশ দিল, নাম তোলার জন্য আবেদন করেও যাদের নাম এখনও বাদ রয়েছে বা এখনও ভোটার তালিকায় আসেনি, তাদের তালিকা কালকের (৯ অক্টোবর) মধ্যেই জানাতে হবে।
মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে নির্বাচন কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা প্রশ্ন করেন, আবেদন করা সত্ত্বেও নাম বাদ গিয়েছে কেন? কোন যুক্তি বা নিয়মে এটা হয়েছে? বাদ পড়াদের বিস্তারিত পরিচয় কী? কাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে সেই তালিকা জমা দিতে নির্দেশ দিলেন বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ। উল্লেখ্য, এর আগের পর্যবেক্ষণে এই দুই বিচারপতি জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনকে রীতমতো ধমক দিয়ে বলেছিলেন, চূড়ান্ত এসআইআরে কোন ভুল-ত্রুটি বা গলদ দেখলে পুরো প্রক্রিয়াই বাতিল করে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বিহারে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর-এর খসড়া তালিকার নিরিখে চূড়ান্ত তালিকায় যুক্ত হয়েছে ২১ লক্ষ ৫৩ হাজার ভোটদাতার নাম। বাদ গিয়েছে ৩.৬৬ লক্ষ ভোটার। কিন্তু কেন বাদ দেওয়া হয়েছে তাঁদেরকে? কমিশন তা স্পষ্ট করেনি বলেই এদিন আদালতে অভিযোগ করেন মামলার মূল আবেদনকারী অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস বা এডিআর-এর আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। যদিও এসআইআরে কত সংখ্যক বিদেশির নাম ছিল, সে প্রশ্নেরও সদুত্তর দিতে পারেনি কমিশন। এই মামলায় অন্য আবেদনকারীদের পক্ষেও আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বলেন, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদেরকে নোটিশ পর্যন্ত দিয়ে কারণ জানানো হয়নি। অন্যদিকে কমিশনের আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী সাফাই দিয়ে বলেন, ‘চূড়ান্ত তালিকা যখন বেরিয়েই গিয়েছে, সেখানেই তো দেখা যাবে কার নাম আছে, কার নেই।’
কিন্তু এরপরই কমিশনকে চেপে ধরেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। তিনি বলেন, আবেদন করার পরেও কেন তাদের নাম নেই? সেটাই তো প্রশ্ন। সব মিলিয়ে একটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কাদের নাম বাদ গিয়েছে, কেন বাদ গিয়েছে, আর কাদের নাম যুক্ত হয়েছে, কিছুই স্পষ্ট নয়। বিচারপতি বাগচী আরও বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এ ধরনের ভুল-ভ্রান্তি হওয়া উচিত নয়। প্রথমে ৬৫ লক্ষ লোকের নাম বাদ গেল। তারপরে আবার নতুন কিছু নাম যোগ হল। নতুন যাদের নাম উঠল, সেগুলি কি খসড়া তালিকায় বাদ পড়া? নাকি সম্পূর্ণ নতুন? এ প্রশ্নের জবাবে কমিশনের আইনজীবী বলেন, সিংহভাগই নতুন। প্রথমবারের ভোটার। এরপর বিচারপতি বাগচী বলেন, কমিশনের কাছে তো খসড়া এবং চূড়ান্ত — উভয় তালিকাই রয়েছে। সেই দুটো মেলালেই তো বোঝা যাবে কাদের নাম খসড়ায় ছিল না, আর কাদের নাম ফাইনাল তালিকায় যুক্ত হয়েছে। সেটা দিতে অসুবিধে কোথায়? এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাতে জনগণের আস্থা বাড়ে, সেটাই কাম্য।
বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, না জানিয়ে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, এই অভিযোগ যদি আদালতে করেন এবং তার পক্ষে তথ্য থাকে, তাহলে আমরা কমিশনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দেব। কমিশনকে দুই বিচারপতি এও বলেন, যে ৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের তালিকাও তৈরি করে জমা দিন। কিন্তু মাত্র দু-দিনের মধ্যে এতকিছু কীভাবে করা যাবে, তা ভেবেই ঘুম উবে গিয়েছে কমিশনের। তবে আপাতত কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে বিরোধী শিবিরের।








