বাংলায় ‘স্যার’ এক সপ্তাহেই? নির্বাচন কমিশনের নিদান ঘিরে বিতর্ক
নতুন পয়গাম, কলকাতা:
বিহারে এসআইআর বা ‘স্যার’ প্রক্রিয়া অনেকদিন ধরে চলছে, এখনও সবকিছু মেটেনি। এখনও নিত্যদিন সুপ্রিম কোর্টের ধমকে নিত্যনতুন কাজ করতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে। কিন্তু পশ্চিমবাংলার ক্ষেত্রে এসআইআর-এর প্রস্তুতির জন্য মাত্র এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিল কমিশন। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে? রাজ্যের সব দলই প্রশ্ন তুলেছে এক সপ্তাহ সময়সীমা নিয়ে। এত অল্প সময়ে কীভাবে সাড়ে সাত কোটিরও বেশি ভোটারের ব্যাপারে এসআইআর প্রস্তুতি শেষ করা সম্ভব? এতে প্রচুর গরমিল থাকবে বলে অভিযোগ সর্বদলের। তড়িঘড়ি করতে গিয়ে বিহারের মতো অগণিত মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে আসলে এরাজ্যকে দখল করতে চাইছে বিজেপি। এমনই অভিযোগ বিভিন্ন দলের। তবে এ ব্যাপারে বঙ্গ বিজেপির তেমন কিছু অভিযোগ নেই।
মঙ্গলবার কলকাতায় কমিশনের প্রতিনিধিদল আসেন। বুধবার তাঁরা বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। যার মূল ফোকাস ছিল বহুল চর্চিত ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর প্রস্তুতি নিয়ে। এই কাজ কতদূর হয়েছে, আর কতখানি বাকি আছে, তা নিয়ে এদিন দক্ষিণবঙ্গের জেলাশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা। বন্যার কারণে এই পর্বে উত্তরবঙ্গের জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেননি তাঁরা।
উল্লেখ্য, আগামী বছর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। বাকি মাত্র মাস পাঁচেক। তার আগে জোরকদমে এসআইআর প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বার্তা দেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা। একইসঙ্গে তাঁরা নিদান দেন স্যার-এর প্রস্তুতিপর্ব মাত্র সাতদিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
এই বৈঠকে ছিলেন দেশের উপনির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী, কমিশনের আইটি বিভাগের ডিজি সীমা খান্না, সচিব এসবি যোশী এবং উপসচিব অভিনব আগরওয়াল প্রমুখ। এক সপ্তাহের মধ্যে এনুমারেশন ফর্ম ছাপানো এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে ফেলার নির্দেশ দেন তাঁরা।
পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটার প্রায় ৭ কোটি ৬৫ লক্ষের মতো। প্রত্যেক ভোটারকে দু’টি করে ফর্ম দেওয়া হবে। যার একটি জমা নেবেন বিএলও, আর অন্যটি থাকবে ভোটারের কাছে। সুতরাং ১৫ কোটিও বেশি ফর্ম লাগবে। উল্লেখ্য, বিহারে এসআইআর নিয়ে ভুরিভুরি অভিযোগ ওঠায় বারবার কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে কমিশনকে। বাংলাতেও একইভাবে কমিশনের মুখ পুড়বে কিনা, তা সময়ই বলবে। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন নিয়ে কমিশন জানিয়েছে, ভিনদেশী অনুপ্রবেশকারী এবং স্বদেশী অযোগ্য ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ। যদিও বিহারে কত সংখ্যক বিদেশীর নাম ভোটার তালিকায় ঢুকে ছিল, তা জানাতে পারেনি কমিশন। আবার যে ৬৫ লক্ষ ভোটারকে তারা নানা অজুহাতে বাদ দিয়েছিল, তাদের অনেকেই আবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আবেদন করায় তালিকায় তাদের নাম পুনরায় উঠেছে। সব মিলিয়ে বিহারে এসআইর নিয়ে কমিশন একেবারে নাস্তানাবুদ হয়েছে এবং তাদের নাক কাটা গিয়েছে, মুখও পুড়েছে বলে অভিযোগ বাম, কংগ্রেস, তৃণমূল শিবিরের।








