এসআইআর: ৩৪ জনের মৃত্যু, আত্মহত্যা ৩ বিএলও-র কলকাতায় রাজ্য সিইওর দফতরে ৪ মন্ত্রীর ডেপুটেশন
নতুন পয়গাম, কলকাতা:
এসআইআর প্রক্রিয়ার কাজের চাপে মৃত্যুমিছিল বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিএলওদের আত্মহত্যার সংখ্যাও। এ পর্যন্ত ৩৪ জনের প্রাণহানি এবং ৩ বিএলও আত্মহত্যা করেছেন। এই প্রবণতা শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, অন্যান্য যে এক ডজন রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে এসআইআর চলছে, সব জায়গা থেকেই এমন দুঃখজনক খবর আসছে। বাদ পড়েনি মোদি-শাহের রাজ্য গুজরাটও। কাজের জটিলতা, অত্যাধিক চাপ, পাবলিকের কাছে জবাবদিহি বা কৈফিয়ত — সব মিলিয়ে রাজ্য তথা দেশজুড়ে বাড়ছে মৃত্যু।
এই প্রেক্ষিতে শনিবার সিইও দফতরে যান মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, পার্থ ভৌমিক। কমিশনের গাফিলতিতে এসব মৃত্যু হচ্ছে বলে অভিযোগ জানান তারা। এও বলেন, বিএলওদের সঠিক প্রশিক্ষণ না দিয়েই কাজ করানো হচ্ছে। তাদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাদের ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে সুখ-শান্তি উধাও হয়ে গেছে। এর দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে। নির্বাচন কমিশন এসব দেখে চুপ থাকতে পারে না।
যদিও নির্বাচন কমিশন শুক্রবার এসবের দায় রাজ্য সরকারের ওপর চাপিয়েছে এবং ক্ষতিপূরণও রাজ্য সরকারকেই দিতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। এদিকে রাজ্যের তিন মন্ত্রী শনিবার সিইও দফতরে গিয়ে অভিযোগ করেন, প্রতিটি বুথে গড়ে ১৫০-২০০ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এক বিশেষ রাজনৈতিক দলের কথায়। এপিক কার্ডের নম্বর ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল রাখা হয়েছে। এই মর্মে তারা ডেপুটেশন দেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার নদিয়ায় রিঙ্কু তরফদার নামে এক মহিলা বিএলও (৫৪)গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন। তিনি বাঙ্গালঝি স্বামী বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরের পার্শ্বশিক্ষক এবং চাপড়া দুই পঞ্চায়েতের ২০১ নম্বর বুথের বিএলও-র দায়িত্বে ছিলেন। আত্মহত্যার আগে নির্বাচন কমিশনকে তাঁর মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে সুইসাইড নোটও লিখে গিয়েছেন।
সিইও দফতরে এদিন ডেপুটেশন দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূলের অভিযোগ, ভুলে ভরা ওয়েবসাইট। দু’বছরের কাজ দু-মাসে করছে। মোট তিন বিএলও আত্মহত্যা করলেন। এদিকে অ্যাপ ক্রাশ করছে, সার্ভার কাজ করছে না। ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে ডিজিটাইজেশনের কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। যদিও শুক্রবার কমিশন জেলা শাসকদের নতুন নিদান দিয়ে বলেছে, ৪ ডিসেম্বর নয়, ২৫ নভেম্বরের মধ্যে ডিজিটাইজেশনের কাজ শেষ করতে হবে।








