মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগে ফের উত্তেজনা, পর্ষদ সচিবের গাড়িতে হামলা
নতুন পয়গাম, কলকাতা:
পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা পর্ষদের অধীনে জুনিয়র হাই মাদ্রাসা, হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাযিল তথা সিনিয়র মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে ফের চাঞ্চল্য।
মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন ও সংবিধানের ৩০ ধারার কিছু ব্যাখ্যাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালন সমিতি ও কমিশনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শেষ পর্যন্ত এই দ্বন্দ্ব আদালতের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়।
রাজ্য সরকার ও একাধিক শিক্ষক সংগঠনের হস্তক্ষেপে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন শেষ পর্যন্ত তার নিয়োগ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০১৮ সাল থেকে কমিশন নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে এবং পরবর্তী কয়েক বছরে একাধিক পরিবর্তনও আনা হয়।
তবু পরিচালন সমিতির মাধ্যমে নিযুক্ত শিক্ষক-কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা চলতে থাকে। অভিযোগ ওঠে, পরিচালন সমিতির মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে অনৈতিকভাবে নিয়োগ হয়েছে। কমিশন থাকা সত্ত্বেও এই নিয়োগকে ‘ভূতুড়ে শিক্ষক নিয়োগ’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়।
এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জাস্টিস দেবী প্রসাদ দে কমিটি নথি পরীক্ষা করে রিপোর্ট পেশ করেছে।
এদিকে বেতন বন্ধ থাকায় পরিচালন সমিতির নিযুক্ত শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন চালুর দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই মাঝে পর্ষদ সচিব মুক্লেসুর রহমান ও ডি.এম.ই দপ্তরের কর্তারা বিভিন্ন জেলায় গিয়ে নথি যাচাই শুরু করেন।
অভিযোগ, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথিতে পর্ষদ সচিবের গাড়ি আটকে তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় পরিচালন সমিতির মদতপুষ্ট কিছু দুষ্কৃতী।
এই ঘটনায় পর্ষদ সচিব পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং কাঁথি থানায় এফআইআর দায়ের করেন। অভিযোগে আবু সোহেল, আব্দুস সাত্তার সহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রাজ্যের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক সংগঠনগুলির নেতা-নেত্রীরা।
পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক আবু সুফিয়ান বলেন,
“আইনি প্রক্রিয়ায় হেরে যাওয়ার হতাশা থেকেই এই ধরনের নিন্দনীয় হামলা ঘটানো হয়েছে। পর্ষদ সচিব একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও দক্ষ প্রশাসক। এমন হামলায় তাঁকে দুর্বল করা যাবে না।”








