বাল্যবিবাহ রুখে দৃষ্টান্ত স্থাপন, সাহসী হাবিবাকে শিক্ষা দপ্তরের সংবর্ধনা
উমার ফারুক
নতুন পয়গাম, মালদা:
মাত্র ১৪ বছর বয়সে নিজের বিয়ে নিজেই থামিয়ে দিয়ে মালদা জেলার রতুয়া-২ ব্লকের মহারাজপুর কেফাতুল্লাহ হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী হাবিবা খাতুন সৃষ্টি করেছে এক অনন্য নজির। তার এই অদম্য সাহস এখন জেলার ছাত্রছাত্রীদের কাছে অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত।
ঘটনাটি ঘটেছে ৩ সেপ্টেম্বর। হাবিবার পরিবার ওই দিন তার বিয়ের আয়োজন করেছিল। কিন্তু বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সে স্পষ্ট অবস্থান নেয়। বিয়ের দিন সকালেই সে ছুটে যায় নিজের স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা নাবিদা আঞ্জুমের বাড়িতে। কাতর কণ্ঠে জানায়—“ম্যাডাম, আমাকে সহযোগিতা করুন।”
শিক্ষিকা নাবিদা আঞ্জুম সঙ্গে সঙ্গে হাবিবার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় সেই রাতেই বিয়ে বন্ধ করা হয়। পাশাপাশি মেয়েটির পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পরিবারকেও বোঝানো হয়।
শুধু তাই নয়, বুধবার হাবিবার এই সাহসিকতার স্বীকৃতি জানাতে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) বাণীব্রত দাস স্বয়ং স্কুলে এসে তাকে সংবর্ধনা দেন। জেলা শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রতুয়া-২ ব্লকের বিডিও শেখর শেরপা, পুখুরিয়া থানার ওসি মৃণাল চ্যাটার্জী সহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্তারা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) বাণীব্রত দাস বলেন, “নবম শ্রেণির ছাত্রী হাবিবা খাতুন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করে এক উজ্জ্বল উদাহরণ স্থাপন করেছে। তার সাহসিকতা অন্য ছাত্রীদেরও উৎসাহ দেবে। প্রতিটি মেয়ে যেন হাবিবার মতো সাহসী ও সুনাগরিক হয়ে ওঠে—এই কামনা করি।”
ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা নাবিদা আঞ্জুম জানান, “আমাদের স্কুলে বহু বছর ধরে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা শিবির চলছে। কিন্তু এই প্রথম কোনো ছাত্রী সাহস করে নিজের বিয়ে নিজে আটকে দিল। সে আমাদের কাছে ছুটে আসে, আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্লক প্রশাসন ও পুখুরিয়া থানাকে জানাই। প্রশাসনের তৎপরতায় মাঝরাতে বিয়ে বন্ধ হয়।”
হাবিবার এই উদ্যোগে স্কুল থেকে জেলা শিক্ষা দপ্তর—সবার মধ্যেই তৈরি হয়েছে এক নতুন আশা। এখন দেখা যাক, এই সাহসিকতা অন্য ছাত্রীদেরও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এগিয়ে আসার শক্তি জোগায় কিনা।








