টাকার দামে রেকর্ড পতন, কমছে লগ্নি।
‘শুল্ক-যুদ্ধ’ ছিল গোদ, বিষফোড়া ভিসা
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি, ২৩ সেপ্টেম্বর:
একা শুল্ক-যুদ্ধে রক্ষে নেই, তারওপর দোসর এইচ-১বি ভিসার ফি বৃদ্ধি। ফলে গোদের ওপর বিষফোড়া হিসেবে দেখা যাচ্ছে ডলারের তুলনায় টাকার দামে রেকর্ড পতন। ট্রাম্প প্রশাসনের জোড়া ধাক্কায় টালমাটাল দেশের বাণিজ্য মহল এবং অর্থনীতি। ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক চাপানোর পর এইচ-১বি ভিসার ফি বৃদ্ধিতে সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিদেশি বা অভিবাসী কর্মীদের জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বছরে ১ লক্ষ ডলার করে মাশুল দিতে হবে! এতে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভারতীয় দক্ষ কর্মীরা। কারণ, গত বছর এইচ-১বি ভিসার প্রায় ৭০ শতাংশই পেয়েছিলেন ভারতীয় নাগরিকরা। ফলে ট্রাম্পের ভিসা ফি একধাক্কায় বহুগুণ বাড়ায় দিশাহারা তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টর।
ট্রাম্পের জোড়া ফলায় বিদ্ধ হয়ে ভারতের অর্থনীতির চিত্রটাই এই কদিনে আমূল বদলে গেছে বলে মনে করছেন অর্থীনিতিবিদরা। একসঙ্গে দুই ধাক্কা বা আঘাতের জেরে ডলারের নিরিখে টাকার মূল্য সর্বকালীন পতনের সাক্ষী হল। সোমবার দিনভর দফায় দফায় পতন ঘটে ভারতীয় মুদ্রা মূল্যে। আগের সব রেকর্ড ভেঙে ১ ডলারের দাম প্রায় ৮৮ টাকা ৮০ পয়সায় গিয়ে পৌঁছয়। শেষ পর্যন্ত শেয়ার বাজার বন্ধ হওয়ার সময় তা এসে স্থিত হয় ৮৮ টাকা ৭৬ পয়সায়।
এশিয়া মহাদেশে অন্যান্য দেশের মুদ্রায় তুলনায় টাকার দর পতন সবথেকে বেশি দেখা যাচ্ছে চলতি বছরে, সাড়ে ৩ শতাংশ। বিরাট ধস নেমেছে শেয়ারবাজারও। একসময় এক ধাক্কায় ৩৫০ পয়েন্ট নেমে যায় শেয়ার বাজার। গত ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়েছে শেয়ার বাজারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, খুব শীঘ্রই ডলারের মূল্য ৯০ টাকা ছাপিয়ে যাবে। এহেন নেতিবাচক প্রবণতায় বিদেশি লগ্নিকারীরা তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে বিনিয়োগ কমাচ্ছে বা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে বলে খবর। সেই ধাক্কায় সেনসেক্স এবং নিফটি সূচক থরহরি কম্পমান। শোনা যাচ্ছে যত দিন যাবে, ততই ভারত থেকে মার্কিন মুলুকে ভারতীয় কর্মী নিয়োগ কমতে থাকবে। যার পরিণতি হল, আমেরিকা থেকে ভারতে ডলারের আগমন কমবে। ফি বছর আমেরিকায় কর্মরত ভারতীয়দের মাধ্যমে গড়ে এদেশে আসে ৩৩০০ কোটি ডলার।
রিজার্ভ ব্যাংক টাকার পতন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ করছে না। সাধারণত রিজার্ভ ব্যাংক ডলার বিক্রির জোগান তুলনামূলক কম দরে বাড়িয়ে দিলে আর্থিক লেনদেনে কিছুটা স্থিতি ফিরে আসে। কিন্তু তাতে টান পড়বে বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারে। চলতি বছর লাগাতার টাকার দর পতন এবং শেয়ার বাজারে ভারসাম্যহীনতার কারণে এ পর্যন্ত বিদেশি লগ্নিকারীরা ১৫০০ কোটি টাকা প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতের বাজার থেকে। ৪৮ ঘণ্টায় এটা সবথেকে বেশি হয়েছে তথ্য-প্রযুক্তি খাতে। কিন্তু সবথেকে বেশি কর্মসংস্থান তথ্য-প্রযুক্তি সেক্টরেই। ফলে আবারো কয়েক হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।








