খালতিপুরে রেলগেটে আন্ডারপাস নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর
আবু রাইহান, মতুন পয়গাম, কালিয়াচক:
শত বছরের পুরনো খালতিপুর রেলগেট (১৭C গেট) বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ—এ খবর পেয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ বিরাজ করছে। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ এই গেট দিয়ে যাতায়াত করেন; এর উপর নির্ভরশীল কালিয়াচক-১ ব্লকের দারিয়াপুর, নাওদা, যদুপুর ও জাতীয় সড়ক-১২ সংলগ্ন এলাকাসহ কালিয়াচক-২ ব্লক ও সিলামপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েকটি গ্রাম।
বৃহস্পতিবার রেলের বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরা এলাকাটি পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, দ্রুতগতির ট্রেন চলাচল বাড়ায় খুব শিগগিরই গেটটি বন্ধ করা হবে। এর আগে মাদ্রাসা পাড়ার রেললাইন দিয়ে চলা রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান।
স্থানীয়রা বলছেন, এই পথ দিয়ে তাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম যাতায়াত করছে; রেললাইনের পশ্চিম পাশে মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল ও কবরস্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গেট বন্ধ হলে দুই পাশের মানুষের যোগাযোগ সরাসরি ভেঙে পড়বে— বিশেষত জরুরি ক্ষেত্রে অ্যাম্বুল্যান্স চলাচল, স্কুলছাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত ও মৃতদেহ কবরস্থানে আনায় সমস্যার সৃষ্টি হবে, দাবি এলাকাবাসীর।
রেল কর্তৃপক্ষ বর্তমানে স্টেশন ঘুরে যাওয়ার বিকল্প পথ দেখিয়েছে; কিন্তু ওই পথে যাওয়ার ফলে যাতায়াত প্রায় তিন কিলোমিটার বাড়বে— যা প্রতিদিনকার চলাচলকে অতিরিক্ত কষ্টকর করে তুলবে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে রেলের কাছে জোর দাবিতে বলা হয়েছে— “৫০০ মিটারের মধ্যেই একটি আন্ডারপাস তৈরি করলেই সমস্যার সমাধান হবে।” সিলামপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী নাসিরুদ্দিন আহমেদ জানান, গেট বন্ধ করার আগে আন্ডারপাস নির্মাণ নিশ্চিত করা হলে তাদের আপত্তি থাকবে না।
অবিলম্বে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে আন্ডারপাস নির্মাণের দাবি জানিয়ে এলাকাবাসী রেলের কাছে অনুরোধ করেছে; রাজ্য কিংবা রেল কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত উদ্যোগ না নেয়, তাহলে সামনের দিনগুলোতে সংযোগহীনতা ও দুর্ভোগ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।








