কচিকাঁচা ইসলামিক কিন্ডারগার্টেনের ছাত্রছাত্রীদের নজরকাড়া সাফল্য, কালিয়াচকে গৌরবের নতুন দিগন্ত
এম নাজমুস সাহাদাত, নতুন পয়গাম, কালিয়াচক:
ধারাবাহিক সাফল্যের ধারা বজায় রেখে জেলার অন্যতম শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কচিকাঁচা ইসলামিক কিন্ডারগার্টেন আবারও রাজ্যজুড়ে সুনাম অর্জন করেছে। বিভিন্ন রাজ্য ও জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ ট্যালেন্ট সার্চ একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত চতুর্থ শ্রেনির গণিত মেধা পরীক্ষায় রাজ্যজুড়ে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে বিদ্যালয়ের ছাত্র ফারহান আলী রাজ্যস্তরে দশম স্থান অর্জন করে। এছাড়া নব পরিবর্তন ধারা আয়োজিত জিকে ট্যালেন্ট সার্চ পরীক্ষায় মালদা জেলার মধ্যে ৩২ জন শিক্ষার্থী সাফল্য পেয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশই এই বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী। পাশাপাশি, চলতি বছরে আল আমীন মিশনের ভর্তি পরীক্ষায় একাধিক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
বিদ্যালয়ের সম্পাদক আনিকুল ইসলাম ও প্রধান শিক্ষক নাজমুল হক জানিয়েছেন, “এই সাফল্য শুধু বিদ্যালয়ের নয়, গোটা কালিয়াচক এলাকার গর্ব।” তারা আরও বলেন, “ছোট থেকেই আমরা শিক্ষার্থীদের গণিত, সাধারণ জ্ঞান ও ভাষার উপর দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলি, যাতে তারা ভবিষ্যতে যেকোনো প্রতিযোগিতায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশ নিতে পারে।”
শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানান, কচিকাঁচা ইসলামিক কিন্ডারগার্টেনে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি শিশুদের মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিয়মিত কুইজ, ট্যালেন্ট টেস্ট ও প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের মাধ্যমে শিশুদের বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানো হয়।
কালিয়াচক থানার অন্তর্গত পিছিয়ে পড়া লক্ষীপুর গ্রামে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠান আধুনিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয়ে শিশুদের নৈতিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশে কাজ করছে দীর্ঘদিন ধরে। বিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক সাফল্যে অভিভাবকদের মধ্যেও আনন্দের জোয়ার।
সব মিলিয়ে, কচিকাঁচা ইসলামিক কিন্ডারগার্টেন আজ মালদা জেলার শিশু শিক্ষায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। বিদ্যালয়ের পরবর্তী লক্ষ্য রাজ্য থেকে জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় সাফল্যের ধারা বজায় রাখা। এই অর্জন প্রমাণ করে, সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে গ্রামীণ এলাকার শিশুরাও রাজ্যজুড়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে।








