মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে
নতুন পয়গাম, উমার ফারুক, মালদা: সোমবার মালদহ জেলা প্রশাসনের নিকট বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে অবস্থান বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। রাজ্যের প্রায় ৬০ লক্ষাধিক বৈধ ভোটারের ভোটাধিকার অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি বলে জানিয়েছেন উদ্যোগতারা। জানা গিয়েছে, বিভিন্ন গণসংগঠন ও নাগরিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে গঠিত মালদা মুসলিম মাইনরিটি ফোরামের প্রতিনিধিবৃন্দ এদিন মালদহ জেলাশাসকের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। সম্প্রতি প্রকাশিত ভোটার তালিকায় বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়া এবং লক্ষ লক্ষ ভোটারকে ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রাখার প্রতিবাদে এদিন মাইনরিটি ফোরামের আহ্বানে জেলা সদরের রথবাড়ী মোড় থেকে প্রায় কয়েক শতাধিক নাগরিক মিছিল করে জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে পৌঁছয়। সেখানে তাঁরা অবস্থান বিক্ষোভ করেন। কর্মসূচি শেষে সংগঠনগুলির একটি প্রতিনিধিদল জেলাশাসকের মাধ্যমে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের কাছে বিভিন্ন দাবিদাওয়া সম্বলিত স্মারকলিপি পেশ করেন। স্মারকলিপিতে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত এসআইআর ভোটার তালিকাকে ঘিরে তৈরি হওয়া একাধিক গুরুতর উদ্বেগের বিষয় তুলে ধরা হয়।
প্রধান দাবিগুলি হলো, ভোটারদের পরিচয় সংক্রান্ত বিভ্রান্তি দূর করতে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার ফটো আইডেন্টিটির সঙ্গে বর্তমান ভোটারদের জমা দেওয়া ছবির মিলিয়ে দেখা।এসআইআর ভোটার তালিকায় ব্যাপক হারে নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা। ‘বিচারাধীন’ তালিকায় থাকা সকল ভোটারের বিষয়ে স্বচ্ছ ও সময়সীমাবদ্ধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা। যাঁদের নাম বাদ পড়েছে বা বিচারাধীন রাখা হয়েছে, তাঁদের কাছে লিখিতভাবে স্পষ্ট কারণ জানানো। কোনো যোগ্য নাগরিক যাতে প্রশাসনিক বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা। এদিনের অবস্থান বিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন ওয়েল ফেয়ার পার্টির রাজ্য সভাপতি মহম্মদ শাজাহান আলী। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট। বিজেপির শাখা সংগঠন হিসেবে কাজ করছে। বিজেপিকে বাংলার ক্ষমতায় আনার জন্য বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা এই তীব্র প্রতিবাদ করছি।
উপস্থিত প্রতিনিধিরা জানান, সকল যোগ্য নাগরিকের ভোটাধিকার সুরক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বিক্ষোভ সমাবেশের বক্তারা জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল এবং পরবর্তীতে আরও প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৬০ লক্ষাধিক ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় রাখা হয়েছে, যার ফলে প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কার্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাদ পড়া বা বিচারাধীন তালিকায় থাকা মানুষের বড় অংশই গরিব, পরিযায়ী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্গত। বহু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যাঁরা জীবিত এবং পূর্ববর্তী নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের নামও তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। আবার অনেকেই নির্ধারিত শুনানিতে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পরও তাঁদের নাম কেন বাদ পড়েছে বা বিচারাধীন রাখা হয়েছে, তার কোনো স্পষ্ট কারণ জানানো হয়নি।








